নেসকোর সদর দপ্তর স্থানান্তর নিয়ে রাজশাহীতে তীব্র ক্ষোভ ও আন্দোলনের হুঁশিয়ারি

রাজশাহীতে নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি লিমিটেডের (নেসকো) প্রধান কার্যালয় স্থানান্তরের গুঞ্জন ঘিরে পুরো অঞ্চলজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় রাজনৈতিক, সামাজিক, ব্যবসায়ী ও পেশাজীবী সংগঠনগুলো এই উদ্যোগকে রাজশাহীর প্রশাসনিক মর্যাদা ও উত্তরাঞ্চলের অর্থনীতির জন্য আত্মঘাতী বলে মনে করছে। বিষয়টি কেবল একটি দপ্তরের স্থানান্তর নয়, বরং এটি উত্তরাঞ্চলের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে দাবি করেছেন স্থানীয় বিশিষ্টজনেরা।

বিজ্ঞাপন

চলতি বছরের মার্চ মাসে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর একটি ডিও লেটারের ভিত্তিতে গঠিত কমিটি প্রথম এই স্থানান্তরের প্রক্রিয়া শুরু করেছিল। তৎকালীন সময়ে রাজশাহীবাসীর প্রবল জনমতের চাপে সেই উদ্যোগ থমকে গেলেও, সাম্প্রতিক একটি চিঠির সূত্র ধরে বিতর্কটি নতুন মাত্রা পেয়েছে। এ নিয়ে নগরীর বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ একাট্টা হয়ে রাজপথে নেমেছেন এবং নেসকোর প্রধান কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছেন।

আন্দোলনরত নাগরিক সমাজের নেতারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে নেসকোকে রাজশাহী থেকে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হলে বৃহত্তর আন্দোলনের ডাক দেওয়া হবে। প্রয়োজনে হরতাল ও অবরোধের মতো কঠোর কর্মসূচি পালনের ঘোষণাও দিয়েছেন তারা। তাদের মতে, রাজশাহী একটি ঐতিহ্যবাহী বিভাগীয় শহর এবং ব্রিটিশ আমল থেকেই এটি বিদ্যুৎ বিভাগের প্রশাসনিক কেন্দ্র হিসেবে গুরুত্ব বহন করে আসছে, যা কোনোভাবেই অবজ্ঞা করা উচিত নয়।

স্থানীয় অর্থনীতিতে এর প্রভাব নিয়ে ব্যবসায়ী ও শিক্ষাবিদদের আশঙ্কা অত্যন্ত প্রবল। সাহেববাজার এলাকার ব্যবসায়ী জয়নাল আবেদিন জানান, একটি প্রতিষ্ঠানের সদর দপ্তর স্থানান্তরিত হলে আবাসন, পরিবহন, সেবাখাত ও ক্ষুদ্র ব্যবসা-বাণিজ্যসহ স্থানীয় অর্থনীতিতে বড় ধরনের ধস নামবে। অর্থনীতিবিদদের মতে, রাজধানীকেন্দ্রিক উন্নয়নের পরিবর্তে আঞ্চলিক ভারসাম্য রক্ষা করা রাষ্ট্রীয় নীতিমালার মৌলিক বিষয় হওয়া উচিত, যা বর্তমান পরিস্থিতিতে চরমভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

তবে প্রশাসনিক সমন্বয়ের দোহাই দিয়ে সংশ্লিষ্ট একটি মহলের পক্ষ থেকে সদর দপ্তর স্থানান্তরের পক্ষে যুক্তি দেখানো হচ্ছে। তাদের দাবি, রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের ১৬টি জেলায় নেসকোর কার্যক্রম বিস্তৃত থাকায় প্রশাসনিক সুবিধার জন্য এটি প্রয়োজন। যদিও এর প্রতিবাদকারীরা পাল্টা প্রশ্ন তুলেছেন যে, আধুনিক প্রযুক্তির উৎকর্ষের যুগে কার্যালয় না সরিয়ে ডিজিটাল ব্যবস্থাপনা ও আঞ্চলিক দপ্তরের সক্ষমতা বৃদ্ধি করলেই প্রশাসনিক জটিলতা নিরসন সম্ভব।

ঐতিহাসিক গুরুত্ব ও প্রশাসনিক কাঠামোর এই সংকট সমাধানে কর্তৃপক্ষ কতটুকু সংবেদনশীল ভূমিকা পালন করবে, তা নিয়ে এখন জনমনে প্রশ্ন উঠেছে। রাজশাহীবাসী মনে করছেন, কোনো অশুভ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে গেলে তা কেবল উত্তরাঞ্চলের জনগণের বিরূপ প্রতিক্রিয়াকেই উসকে দেবে। এ ঘটনায় রাজশাহীর সকল মহলের মানুষ জরুরি ভিত্তিতে নেসকোর প্রধান কার্যালয় স্থানান্তর বন্ধের দাবি জানিয়েছেন।

0%
0%
0%
0%