মেটার প্ল্যাটফর্মে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অপব্যবহার ও নিউডিফাই অ্যাপের বিজ্ঞাপন নিয়ে নতুন বিতর্ক

ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের মূল কোম্পানি মেটার প্ল্যাটফর্মে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহার করে তৈরি ‘নিউডিফাই’ ও ফেস-সোয়াপ অ্যাপের বিজ্ঞাপন ছড়িয়ে পড়া নিয়ে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। মার্কিন গবেষণা সংস্থা টেক ট্রান্সপারেন্সি প্রজেক্টের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে, চিনা বিজ্ঞাপন সংস্থা গ্যাদারওয়ান-এর মাধ্যমে এ ধরনের বিতর্কিত অ্যাপের বিজ্ঞাপন মেটার প্ল্যাটফর্মে প্রচারিত হয়েছিল। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর মেটা সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞাপনগুলো সরিয়ে ফেলেছে এবং নির্দিষ্ট কিছু অ্যাপের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।

বিজ্ঞাপন

গবেষণা সংস্থাটির প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত এপ্রিল থেকে জুন মাসের মধ্যে মেটার বিজ্ঞাপন লাইব্রেরিতে এমন একাধিক কন্টেন্ট লক্ষ্য করা গেছে, যেখানে তরুণীদের আপত্তিকর ছবি ব্যবহার করে ব্যবহারকারীদের প্রলুব্ধ করা হচ্ছিল। এই বিজ্ঞাপনগুলো ব্যবহারকারীদের বিভিন্ন এআই-ভিত্তিক ফেস-সোয়াপ ও নিউডিফাই অ্যাপের দিকে ধাবিত করছিল। অনুসন্ধানে ‘বি-আফটার’ নামক একটি অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপের সন্ধান পাওয়া গেছে, যা গুগল প্লে স্টোর থেকে পরে সরিয়ে নেওয়া হয়। অ্যাপটির বিরুদ্ধে নাবালকদের অশ্লীল ভিডিও তৈরির মতো গুরুতর অভিযোগও উঠেছিল।

মেটার নারী নিরাপত্তা নীতির প্রধান সিন্ডি সাউথওর্থ স্পষ্ট জানিয়েছেন, সম্মতি ছাড়া কাউকে নিয়ে এ ধরনের অন্তরঙ্গ ছবি তৈরি বা প্রচারের কোনো সুযোগ তাদের প্ল্যাটফর্মে নেই। কোম্পানির মুখপাত্র জানিয়েছেন, বিজ্ঞাপনদাতাদের কঠোর নীতিমালা মেনে চলতে হয় এবং নিয়ম লঙ্ঘনের দায়ে অ্যাকাউন্ট বাতিলসহ আর্থিক জরিমানার মতো পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে, গ্যাদারওয়ান দাবি করেছে যে তারা আন্তর্জাতিক আইনি কাঠামো মেনে কাজ করে এবং ঘটনার প্রেক্ষিতে তারা এআই-নির্ভর নিউডিফাই পরিষেবার জন্য নতুন বিজ্ঞাপন অ্যাকাউন্ট তৈরি স্থগিত করেছে।

এই ঘটনা মেটার চিন-নির্ভর বিজ্ঞাপন ব্যবসার অন্ধকার দিকটিকে পুনরায় সামনে নিয়ে এসেছে। ২০২৪ সালে মেটার মোট আয়ের প্রায় ১১ শতাংশ, অর্থাৎ ১৮৪০ কোটি মার্কিন ডলার এসেছে চিন থেকে। যদিও চিনে ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম নিষিদ্ধ, তবুও বিভিন্ন মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে চিনা সংস্থাগুলো বিদেশি গ্রাহকদের লক্ষ্য করে মেটার প্ল্যাটফর্মে বিজ্ঞাপন প্রচার করে থাকে। মেটার প্রাক্তন কর্মকর্তা সারা উইন-উইলিয়ামস আগেই অভিযোগ করেছিলেন যে, সংস্থাটি দীর্ঘদিন ধরে চিনের সঙ্গে ব্যবসায়িক স্বার্থে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রেখেছে।

বিজ্ঞাপন

এআই প্রযুক্তির এই অপব্যবহার নিয়ে জনমনে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের জর্জ মেসন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, অর্ধেকেরও বেশি কিশোর-কিশোরী নিউডিফাই টুল ব্যবহার করেছে এবং এক-তৃতীয়াংশেরও বেশি শিক্ষার্থী এর শিকার হয়েছে। প্রযুক্তিবিদরা মনে করছেন, কেবলমাত্র বিজ্ঞাপন বন্ধ করা সমস্যার স্থায়ী সমাধান নয়। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোর ওপর আরও কঠোর নজরদারি, কঠোর আইনি কাঠামো এবং ব্যবহারকারীদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করা এখন সময়ের দাবি।

তথ্যসূত্র: হিন্দুস্থান টাইমস

0%
0%
0%
0%