প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে কঠোর বিল নিয়ে লোকসভায় আলোচনার ঐকমত্য, উত্তপ্ত বিতর্কের আভাস

প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো স্পর্শকাতর ইস্যুতে সৃষ্ট অচলাবস্থার অবসানে বড় ধরনের অগ্রগতি হয়েছে ভারতের সংসদে। লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার মধ্যস্থতায় এবং সব প্রধান রাজনৈতিক দলের সম্মতিতে মঙ্গলবার থেকে ‘পাবলিক এক্সামিনেশনস (প্রিভেনশন অফ আনফেয়ার মিনস) বিল, ২০২৬’-এর ওপর বিস্তারিত আলোচনার পথ সুগম হয়েছে। দেশজুড়ে চলমান ছাত্র আন্দোলন, পুলিশি বলপ্রয়োগের অভিযোগ এবং সরকারের বিরুদ্ধে বিরোধীদের ধারাবাহিক বিক্ষোভের প্রেক্ষাপটে এই বিলটি জাতীয় রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
গত সোমবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং লোকসভায় বিলটি উত্থাপন করতে গিয়ে বিরোধী সাংসদদের তীব্র বিক্ষোভের মুখে পড়েন। গত ২০ জুলাই প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিরুদ্ধে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি নির্যাতন ও দিল্লিতে পেলেট গান ব্যবহারের অভিযোগ তুলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের জবাবদিহিতা চেয়ে সরব হয় বিরোধী জোট। উত্তাল পরিস্থিতির জেরে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। দিনভর অচলাবস্থার পর স্পিকার ওম বিড়লা দলীয় নেতাদের সঙ্গে জরুরি বৈঠকে বসেন এবং বিলের গুরুত্ব বিবেচনায় একে দলমতের ঊর্ধ্বে রেখে আলোচনার আহ্বান জানান।
সংসদীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রস্তাবিত বিলটির ওপর আলোচনার জন্য ছয় ঘণ্টা সময় বরাদ্দ করেছেন স্পিকার। বিরোধী দলগুলো ইতিমধ্যে ৯৩টি সংশোধনী প্রস্তাব জমা দিয়েছে, যার ফলে বিতর্কটি বেশ উত্তপ্ত হওয়ার আভাস পাওয়া যাচ্ছে। সংসদীয় কার্যে বিঘ্ন ঘটানোর অভিযোগ তুলেছেন সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু। তবে তেলুগু দেশম পার্টির সাংসদ কৃষ্ণ প্রসাদ তেন্নেতি যুবসমাজের ভবিষ্যতের খাতিরে বিলটি দ্রুত পাস করার ওপর জোর দিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর আশ্বাসের ভিত্তিতে নতুন এই বিলে শাস্তির বিধান কঠোর করা হয়েছে। সংশোধিত আইন অনুযায়ী, প্রশ্নপত্র ফাঁস বা পরীক্ষায় জালিয়াতির দায়ে দোষী সাব্যস্ত হলে ন্যূনতম ৫ বছর থেকে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড এবং ৫০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত জরিমানার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। এছাড়া পরীক্ষা পরিচালনাকারী কোনো সংস্থা বা প্রতিষ্ঠান দোষী প্রমাণিত হলে তাদের ওপর ৫ কোটি টাকা জরিমানা, পরীক্ষার পুরো ব্যয়ভার বহন এবং ৮ বছরের জন্য সরকারি পরীক্ষা থেকে নিষিদ্ধ করার বিধান যুক্ত করা হয়েছে।
বর্তমান আইনে অপরাধের মাত্রা অনুযায়ী ৩ থেকে ৫ বছরের কারাদণ্ড ও ১০ লক্ষ টাকার জরিমানার যে বিধান ছিল, তা নতুন বিলে বহুগুণ বাড়ানো হয়েছে। বিচার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে অভিযোগপত্র দাখিলের ৩ মাসের মধ্যে মামলার নিষ্পত্তির জন্য ফাস্ট-ট্র্যাক কোর্ট গঠন ও প্রতিদিন শুনানির প্রস্তাব রাখা হয়েছে। পাশাপাশি তদন্তের জন্য একটি বিশেষ টাস্কফোর্স গঠনের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
সংসদে বিরোধী দলগুলোর নেতারা সরকারের সমালোচনা অব্যাহত রেখেছেন। রাজ্যসভার বিরোধী দলনেতা মল্লিকার্জুন খাড়গে ও লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ওপর বলপ্রয়োগের তীব্র নিন্দা জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর জবাব দাবি করেছেন। তৃণমূল কংগ্রেসের ডেরেক ও’ব্রায়েন এবং ডিএমকে সাংসদ তিরুচি শিবা বর্তমান আইন কার্যকর না করেই নতুন আইন আনার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তবে সরকারের দাবি, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ ও উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কমিটি গঠনসহ নানা সংস্কারমূলক পদক্ষেপের মাধ্যমে তারা দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিয়েছে।
তথ্যসূত্র: হিন্দুস্থান টাইমস