অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধে প্যাকেটজাত খাদ্যে বাধ্যতামূলক লেবেলিংয়ের দাবি বিশেষজ্ঞদের

নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতকরণ এবং অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধে গণমাধ্যমের কার্যকর অংশগ্রহণ ছাড়া কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আনা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন বিশেষজ্ঞরা। মঙ্গলবার রাজধানীর বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের স্বাস্থ্য ও পুষ্টি সেক্টরের উদ্যোগে আয়োজিত ‘বাংলাদেশে প্যাকেটজাত খাদ্যের সামনের অংশে লেবেলিং (এফওপিএল) বিষয়ক গণমাধ্যম প্রচারাভিযান’ শীর্ষক কর্মশালায় বক্তারা এই অভিমত ব্যক্ত করেন।
বর্তমানে বাংলাদেশে উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, স্থূলতা ও কিডনি রোগের মতো অসংক্রামক ব্যাধি উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, দেশে মোট মৃত্যুর প্রায় ৭০ শতাংশই ঘটছে এসব প্রতিরোধযোগ্য অসংক্রামক রোগে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্যে অতিরিক্ত চিনি, লবণ ও ক্ষতিকর ট্রান্সফ্যাটের অনিয়ন্ত্রিত উপস্থিতির কারণে জনস্বাস্থ্য মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
খাদ্যপণ্যের প্যাকেটের পেছনে অত্যন্ত ক্ষুদ্র অক্ষরে লেখা জটিল পুষ্টিগুণ সাধারণ মানুষের পক্ষে বুঝে ওঠা দুরূহ। ফলে ভোক্তাদের স্বাস্থ্যকর খাদ্য নির্বাচনে সহায়তা করতে পণ্যের সামনের অংশে স্পষ্ট ও বাধ্যতামূলক ‘ফ্রন্ট অব প্যাক লেবেলিং’ বা এফওপিএল বাস্তবায়ন এখন সময়ের দাবি বলে কর্মশালায় উল্লেখ করা হয়।
গ্লোবাল হেলথ অ্যাডভোকেসি ইনকিউবেটরের কান্ট্রি লিড মুহাম্মদ রুহুল কুদ্দুস জানান, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করে বাংলাদেশে একটি সহজ ও বাধ্যতামূলক এফওপিএল নীতিমালা প্রণয়নে সরকার কাজ করছে। অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে খাদ্য পরিবেশকে নিরাপদ করার মতো প্রতিরোধমূলক উদ্যোগের ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
বাংলাদেশ হেলথ রিপোর্টার্স ফোরামের সভাপতি প্রতিক ইজাজ বলেন, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় নীতিনির্ধারকদের ওপর নিয়মিত চাপ বজায় রাখা সাংবাদিকতার মূল উদ্দেশ্য। তিনি জনগণের সচেতনতা বৃদ্ধিতে সাংবাদিকদের ধারাবাহিক প্রতিবেদন তৈরির আহ্বান জানান। বারডেম জেনারেল হাসপাতালের প্রধান পুষ্টিবিদ সামসুন নাহার মহুয়া যোগ করেন যে, শিশু-কিশোরদের প্রক্রিয়াজাত খাবারের প্রতি আসক্তি তাদের অল্প বয়সেই স্থূলতা ও হৃদরোগের ঝুঁকিতে ফেলছে, যা রোধে প্যাকেটের সামনের সংকেত অত্যন্ত কার্যকর হবে।
কর্মশালায় জানানো হয়, চিলি ও মেক্সিকোর মতো বিশ্বের অনেক দেশে বাধ্যতামূলক এফওপিএল চালুর ফলে ভোক্তা সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি উৎপাদক প্রতিষ্ঠানগুলোও স্বাস্থ্যকর পণ্য বাজারজাত করতে বাধ্য হয়েছে। ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল বলেন, বস্তুনিষ্ঠ এবং অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের মাধ্যমে বিভ্রান্তি দূর করে সরকারি নীতি বাস্তবায়নের গতি বাড়ানো সম্ভব।
পরিশেষে, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতে সরকার, খাদ্য শিল্পমালিক, গবেষক, ভোক্তা অধিকার সংস্থা এবং গণমাধ্যমকে সমন্বিতভাবে কাজ করার ওপর জোর দেওয়া হয়। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে অসংক্রামক রোগের ভয়াবহ ঝুঁকি থেকে বাঁচাতে বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন ও বাধ্যতামূলক এফওপিএল নীতি দ্রুত বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সাংবাদিকেরা সচেতনতামূলক প্রতিবেদন প্রচারের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।