সীতাকুণ্ডের চন্দ্রনাথ ধামে ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনারের আকস্মিক সফর ঘিরে রহস্য

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে অবস্থিত ঐতিহাসিক চন্দ্রনাথ ধাম ও সতীপীঠ পরিদর্শনে গিয়েছেন নবনিযুক্ত ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনার শ্রী হরিশ কুমার। কোনো ধরনের পূর্বঘোষিত কর্মসূচি বা স্থানীয় প্রশাসনকে অবহিত না করেই আকস্মিক এই সফরে যাওয়ায় এলাকা জুড়ে ব্যাপক কৌতূহল ও আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে সংক্ষিপ্ত সফরসঙ্গী নিয়ে তিনি মন্দির প্রাঙ্গণে পৌঁছান।
সফরকালে শ্রী হরিশ কুমার ৫১ সতীপীঠের অন্যতম মা ভবানী মন্দিরে বিশেষ প্রার্থনায় অংশ নেন। এরপর তিনি পাহাড়চূড়ায় অবস্থিত শ্রী শ্রী ক্রমদীশ্বর স্বয়ম্ভুনাথ মন্দির, শ্রী শ্রী ভৈরব মন্দির এবং ব্যাসকুণ্ডসহ আশপাশের বিভিন্ন ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক স্থাপনা ঘুরে দেখেন। এ সময় তিনি মন্দিরগুলোর বর্তমান অবস্থা, সংরক্ষণ কার্যক্রম এবং তীর্থযাত্রীদের জন্য বিদ্যমান সুযোগ-সুবিধা সম্পর্কে বিস্তারিত খোঁজখবর নেন।
বিদেশি এই কূটনীতিকের সফর সম্পর্কে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে আগে থেকে কোনো তথ্য ছিল না। ফলে এ ধরনের রাষ্ট্রীয় গোপনীয়তা বজায় রাখা সফর নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠছে। এই সফরের মূল উদ্দেশ্য সম্পর্কে ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনের পক্ষ থেকেও এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয়দের অভিমত, চন্দ্রনাথ ধাম বাংলাদেশের অন্যতম প্রাচীন ও গুরুত্বপূর্ণ তীর্থস্থান হিসেবে পরিচিত। প্রতিবছর শিবচতুর্দশী মেলা উপলক্ষে ভারতসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজার হাজার পুণ্যার্থী এখানে সমবেত হন। মন্দির কমিটির ব্যবস্থাপনা ও সাম্প্রতিক নানা বিতর্কিত ঘটনার প্রেক্ষাপটে এই সফরের সঙ্গে কারা জড়িত ছিলেন, তা নিয়েও জনমনে ধোঁয়াশা রয়ে গেছে।
ধর্মীয় ও ব্যক্তিগত পরিদর্শনের আড়ালে এই সফরের নেপথ্যে কোনো কূটনৈতিক কৌশল রয়েছে কি না, তা নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে নানা জল্পনা-কল্পনা অব্যাহত রয়েছে। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে এ আকস্মিক সফরের প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।