হরমুজ প্রণালী নিয়ে অচলাবস্থায় ওমানকে ট্রাম্পের হুমকি

হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ইরান ও ওমানের সম্ভাব্য সমঝোতার গুঞ্জনের প্রেক্ষিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ওমানকে সামরিক হামলার হুমকি দিয়েছেন। গত বুধবার এক মন্ত্রিসভার বৈঠকে ট্রাম্প সাফ জানিয়ে দেন, হরমুজ প্রণালী আন্তর্জাতিক জলসীমা হিসেবেই থাকবে এবং ওমান যদি অন্য সবার মতো আচরণ না করে, তবে তাদের নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া হবে। বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের ২০ শতাংশেরও বেশি এই জলপথ দিয়ে প্রবাহিত হয়, তাই কৌশলগত এই করিডোরের নিয়ন্ত্রণ কোনোভাবেই তেহরান বা মাস্কাটের হাতে ছেড়ে দিতে নারাজ ওয়াশিংটন।
ওমান ঐতিহাসিকভাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত এবং দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক দুই শতাব্দীরও বেশি পুরনো। নিরাপত্তা অংশীদারিত্ব ও মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিসহ নানা ক্ষেত্রে দেশ দুটির মধ্যে গভীর সহযোগিতামূলক সম্পর্ক বিদ্যমান থাকা সত্ত্বেও ট্রাম্পের এই আকস্মিক ও কঠোর মন্তব্য আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। এর আগে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ওমান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল, তবে বর্তমান উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই ‘গানবোট ডিপ্লোমেসি’ বা সামরিক শক্তির দম্ভ প্রদর্শনের কৌশল নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
ট্রাম্পের এই মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করে যুক্তরাষ্ট্রের মানবাধিকার সংগঠন ‘ডন’–এর অ্যাডভোকেসি ডিরেক্টর রায়েদ জ্যারার একে মাফিয়া বসের ভাষার সাথে তুলনা করেছেন। আল জাজিরার সাথে আলাপকালে তিনি বলেন, জাতিসংঘের সনদে কোনো রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে শক্তি প্রয়োগের হুমকি নিষিদ্ধ, যা যুক্তরাষ্ট্রের জন্যও সমানভাবে প্রযোজ্য। তিনি আরও বলেন, একটি আরব দেশের ওপর হামলার হুমকি দেওয়া আইনের শাসনের পরিপন্থী এবং এটি ওয়াশিংটনের বেপরোয়া পররাষ্ট্রনীতিরই বহিঃপ্রকাশ।
উল্লেখ্য, ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয় যে, হরমুজ প্রণালীর ব্যবস্থাপনা নিয়ে ইরান ও ওমানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারকের খসড়া তৈরি হয়েছে। যদিও ট্রাম্প প্রশাসন এই প্রতিবেদনকে সম্পূর্ণ বানোয়াট বলে উড়িয়ে দিয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরান আক্রমণের পর থেকে তেহরান এই জলপথের ওপর সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চালিয়ে আসছে, যা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করেছে।
মন্ত্রিসভার ওই বৈঠকে ট্রাম্প পুনরায় সৌদি আরব ও কাতারের মতো আরব দেশগুলোকে ইসরায়েলের সাথে আনুষ্ঠানিক সম্পর্ক স্থাপনের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, কোনো শান্তি চুক্তির অংশ হিসেবে আরব দেশগুলোর এই পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। ট্রাম্পের দাবি, এসব দেশ যদি ইসরায়েলের সাথে সম্পর্ক স্বাভাবিক না করে, তবে বর্তমান মধ্যস্থতা প্রক্রিয়ার ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়বে এবং তিনি আলোচনার টেবিল থেকে সরে আসার হুমকিও দিয়েছেন।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা