রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল বেসরকারিকরণের সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবিতে খুলনায় সংবাদ সম্মেলন

খুলনা প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলগুলো বন্ধ করে বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেওয়ার সরকারি সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার জোরালো দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট নাগরিক নেতারা। পাটকল রক্ষায় সম্মিলিত নাগরিক পরিষদের ব্যানারে আয়োজিত এই সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, লোকসানের কারণ অনুসন্ধানে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। এছাড়া সরকারি পাটকলগুলো কেন লোকসান গুনছে এবং একই সাথে বেসরকারি পাটকলগুলো কীভাবে লাভজনকভাবে পরিচালিত হচ্ছে, সেটির রহস্য উদঘাটনের আহ্বান জানানো হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে পরিষদের সদস্য সুতপা বেদজ্ঞ উল্লেখ করেন, ২০২০ সালের ২ জুলাই লোকসানের অজুহাতে ২৫টি রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলের উৎপাদন বন্ধ করায় প্রায় ৯০ হাজার শ্রমিক কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। তিনি দাবি করেন, সরকারি প্রশাসনের অদক্ষতা, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা এবং বাংলাদেশ পাটকল করপোরেশনের দুর্নীতির কারণেই রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্পগুলো সংকটের মুখে পড়েছে। বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যদি রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলগুলো ব্যক্তি মালিকানায় ছেড়ে দেওয়া হয়, তবে শ্রমিকদের শোষণ আরও বৃদ্ধি পাবে এবং দেশি-বিদেশি করপোরেট গোষ্ঠীর প্রভাব বলয় শক্তিশালী হবে।
শিল্প খাতের বর্তমান সংকট উত্তরণে সংবাদ সম্মেলনে ১০ দফা দাবি উত্থাপন করা হয়। এসব দাবির মধ্যে রয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্পপ্রতিষ্ঠান বেসরকারিকরণের আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত বাতিল করা, বন্ধ পাটকলগুলো দক্ষ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে পুনরায় সচল করা এবং শ্রমিকদের বকেয়া পাওনা দ্রুত পরিশোধ করা। এছাড়া বিজেএমসিসহ রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রশাসনিক পুনর্গঠন এবং ‘ম্যান্ডেটরি প্যাকেজিং অ্যাক্ট’ কঠোরভাবে কার্যকর করার দাবি জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট কুদরত ই খুদা, সদস্য সচিব এম এ রশিদ এবং যুগ্ম আহ্বায়ক জনার্দন দত্ত নান্টুসহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। বক্তারা সাফ জানিয়ে দেন, রাষ্ট্রীয় শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি ও অধিকার নিশ্চিত না করে কোনো ধরনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হলে কর্মহীন শ্রমিকরা আবারও কঠোর রাজপথের আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবে। সংকট সমাধানে দীর্ঘমেয়াদী জাতীয় শিল্প নীতিমালা প্রণয়নের ওপরও তারা গুরুত্বারোপ করেন।