জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় মোড়কজাত খাদ্যে সতর্কীকরণ লেবেলিং বাস্তবায়নের আহ্বান

জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা ও অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধে প্রক্রিয়াজাত খাদ্যের মোড়কে ‘ফ্রন্ট অব প্যাকেজ লেবেলিং’ বা এফওপিএল প্রবর্তনের দাবি জোরালো হয়েছে। মঙ্গলবার রাজধানীর বাংলামোটরের বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রে আয়োজিত “নিরাপদ খাদ্য ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় এফওপিএল: গণমাধ্যমের ভূমিকা” শীর্ষক এক কর্মশালায় বক্তারা এ পদ্ধতির দ্রুত বাস্তবায়ন ও আইনি বাধ্যবাধকতা তৈরির তাগিদ দিয়েছেন। ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের উদ্যোগে আয়োজিত এই কর্মশালায় দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমের ২৮ জন সাংবাদিক অংশগ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, খাদ্যের পুষ্টিমান সম্পর্কে অবগত হওয়া জনগণের মৌলিক অধিকার। জনস্বাস্থ্য রক্ষায় ক্ষতিকর উপাদান চিহ্নিত করার লক্ষ্যে এফওপিএল নীতিমালা প্রণয়নে বর্তমান সরকার কাজ করে যাচ্ছে। এই প্রক্রিয়ায় জনসচেতনতা তৈরির ক্ষেত্রে গণমাধ্যম সবচেয়ে শক্তিশালী মাধ্যম হিসেবে ভূমিকা রাখতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের স্বাস্থ্য সেক্টরের পরিচালক ইকবাল মাসুদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই আয়োজনে বিশেষ অতিথি ছিলেন গ্লোবাল হেলথ অ্যাডভোকেসি ইনকিউবেটরের বাংলাদেশ কান্ট্রি লিড মোহাম্মদ রুহুল কুদ্দুস। বক্তারা বলেন, আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত এফওপিএল ব্যবস্থা খাদ্যের মোড়কে পুষ্টির তথ্য সহজবোধ্য করে তোলে, যা দীর্ঘমেয়াদে অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণে সহায়ক। তাই অবিলম্বে এর কার্যকর প্রয়োগ নিশ্চিত করা জরুরি।
কর্মশালায় বারডেম জেনারেল হাসপাতালের চিফ নিউট্রিশনিস্ট শামসুন নাহার মহুয়া খাদ্য পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের প্রেক্ষাপটে এফওপিএল-এর গুরুত্ব তুলে ধরেন। এছাড়া সাংবাদিকতার চ্যালেঞ্জ ও জনস্বাস্থ্য বিষয়ক সংবাদ পরিবেশনার কৌশল নিয়ে আলোচনা করেন ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক মঈনুল হাসান সোহেল এবং বাংলাভিশনের সিনিয়র নিউজ এডিটর আবু রুশদ মো. রুহুল আমিন।
আলোচকরা উপস্থিত সাংবাদিকদের প্রতি জনস্বাস্থ্য রক্ষায় আরও বেশি অনুসন্ধানী ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশের আহ্বান জানান। কর্মশালার শেষ পর্যায়ে অংশগ্রহণকারী সাংবাদিকরা জনস্বার্থে এফওপিএল সংক্রান্ত ধারাবাহিক সচেতনতামূলক প্রতিবেদন প্রকাশের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। উন্মুক্ত আলোচনা ও প্রশ্নোত্তর পর্বের মাধ্যমে অনুষ্ঠানটির কার্যক্রম সমাপ্ত হয়।
