মার্কিন ভিসা আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রোফাইল উন্মুক্ত রাখার নির্দেশ

নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসার আবেদনকারীদের জন্য অনলাইন কার্যক্রম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পর্যালোচনার পরিধি আরও বিস্তৃত করার কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ঢাকায় অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস। শুক্রবার এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানানো হয়েছে, ২০২৬ সালের ৩০ মার্চ থেকে নির্দিষ্ট কয়েকটি ক্যাটাগরির ভিসার আবেদনকারীদের তাদের ব্যক্তিগত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রোফাইল সেটিংস ‘পাবলিক’ বা উন্মুক্ত রাখতে হবে। এ ধরনের পদক্ষেপের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের যোগ্যতা ও আবেদনকারীদের পরিচয় যাচাইয়ের প্রক্রিয়া আরও সুসংহত করার লক্ষ্য নিয়েছে ওয়াশিংটন।
নতুন এই নির্দেশনার আওতায় এ-৩, সি-৩, জি-৫, এইচ-৩, এইচ-৪, কে-১, কে-২, কে-৩, কিউ, আর-১, আর-২, এস, টি এবং ইউ ক্যাটাগরির ভিসা আবেদনকারীরা অন্তর্ভুক্ত থাকবেন। মূলত কোনো ব্যক্তি যেন দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা, জননিরাপত্তা ও স্বার্থের পরিপন্থি কোনো উদ্দেশ্য নিয়ে প্রবেশ করতে না পারেন, তা নিশ্চিত করতেই এই বাড়তি সতর্কতা গ্রহণ করা হয়েছে। দূতাবাস স্পষ্ট করেছে যে, ভিসা প্রদানের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা স্তর বজায় রাখা তাদের নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ।
যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্টের তথ্যমতে, প্রতিটি ভিসা আবেদনকে জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে সম্পর্কিত একটি স্পর্শকাতর বিষয় হিসেবে দেখা হয়। স্ক্রিনিং প্রক্রিয়ার সময় আবেদনকারীর সম্পর্কে উপলব্ধ সব ধরনের ডিজিটাল তথ্য যাচাই করা হয় যাতে সম্ভাব্য কোনো হুমকি শনাক্ত করা সম্ভব হয়। দপ্তরটির পক্ষ থেকে বারবার স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, মার্কিন ভিসা কোনো নাগরিক অধিকার নয়, বরং এটি একটি বিশেষ সুযোগ যা কঠোর যাচাই-বাছাই ও শর্ত সাপেক্ষে প্রদান করা হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন দূতাবাসের এই নতুন ফরমান বাংলাদেশের ভিসাপ্রার্থীদের জন্য ডিজিটাল গোপনীয়তার প্রশ্নে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। তবে এটি মূলত বৈশ্বিক অভিবাসন নীতি ও নিজস্ব নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর অবস্থানেরই বহিঃপ্রকাশ। আবেদনকারীদের এখন থেকে ভিসার শর্তাবলী পালনের পাশাপাশি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মেও স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতার প্রমাণ দিতে হবে।
