জাতীয় স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নয়: প্রধানমন্ত্রী

দেশের জ্বালানি খাতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর এবং জাতীয় স্বার্থ ক্ষুণ্ন করে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না বলে দৃঢ় অঙ্গীকার করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। রোববার সচিবালয়ে ‘বাংলাদেশ অফশোর মডেল প্রোডাকশন শেয়ারিং কন্ট্রাক্ট (পিএসসি) ২০২৬’ ও বিডিং রাউন্ড নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। মন্ত্রী জানান, বর্তমান সরকারের প্রতি আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের আস্থা তৈরি হয়েছে, যা দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
সংবাদ সম্মেলনে ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে সরকার গঠন করায় আন্তর্জাতিক মহলে সরকারের গ্রহণযোগ্যতা বেড়েছে, যা বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য বড় আস্থার জায়গা তৈরি করেছে। তিনি উল্লেখ করেন, আমেরিকান ও চীনা কোম্পানিগুলো ইতিমধ্যে বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে বিনিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করেছে। অতীতে নিজস্ব সম্পদ মাটির নিচে রেখে আমদানিনির্ভর জ্বালানি নীতির কারণে অর্থনীতি ও বৈদেশিক মুদ্রার ওপর যে চাপ সৃষ্টি হয়েছিল, তা থেকে বেরিয়ে আসার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
জ্বালানিমন্ত্রী আরও বলেন, ১৯৯৩ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সময় অনুষ্ঠিত বিডিং রাউন্ডের মাধ্যমে আবিষ্কৃত গ্যাস ক্ষেত্রগুলো আজও দেশের জ্বালানি চাহিদার বড় অংশ মেটাচ্ছে। সমুদ্রসীমা জয়ের পর দীর্ঘ সময় অনুসন্ধান ও উত্তোলনে গুরুত্ব না দেওয়ায় যে স্থবিরতা তৈরি হয়েছিল, তা কাটাতে সরকার দায়িত্ব নেওয়ার ১৮০ দিনের মধ্যেই নতুন বিডিং রাউন্ডের ঘোষণা দিয়েছে। বাপেক্সের সক্ষমতা বাড়াতে বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে কাজ করার সুযোগ রাখা হয়েছে, যাতে দেশীয় প্রকৌশলীরা প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি ও অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারে।
জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত জানান, নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী সমুদ্র ও স্থলভাগে জ্বালানি অনুসন্ধানকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বড় পরিবর্তন আনতে সরকার নতুন নীতিমালা প্রণয়ন করছে, যা আগামী দেড় মাসের মধ্যেই চূড়ান্ত হতে পারে। তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বর্তমান সরকার ১৯৯৩ সালের সফল বিডিং রাউন্ডের ধারাবাহিকতায় এবারও একটি স্বচ্ছ ও সফল বিডিং রাউন্ড সম্পন্ন করতে আত্মবিশ্বাসী।
প্রতিমন্ত্রী জানান, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছে এই বিডিং রাউন্ডের বার্তা পৌঁছে দিতে জাতীয় দৈনিক, ওয়েবসাইট এবং বিদেশের বাংলাদেশ দূতাবাস ও হাইকমিশনগুলোর মাধ্যমে প্রচারণা চালানো হচ্ছে। সংবাদ সম্মেলনে জ্বালানি সচিব সাইফুল ইসলাম এবং পেট্রোবাংলার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সরকার আশা করছে, অতীতের ভুলত্রুটি কাটিয়ে দেশের স্বার্থ অক্ষুণ্ণ রেখে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।