কলকাতায় দুই ঘণ্টায় ৩৭৭ বজ্রপাত, বৃষ্টির পূর্বাভাস অব্যাহত দক্ষিণবঙ্গে

বৃহস্পতিবার ভরদুপুরে আচমকাই অন্ধকারে তলিয়ে যায় কলকাতা ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চল। আকাশ কালো মেঘে ঢেকে যাওয়ার পরপরই শুরু হয় ঝোড়ো হাওয়া, প্রবল বৃষ্টি এবং একের পর এক বিকট শব্দে বজ্রপাত। আবহাওয়া দপ্তরের লাইটনিং ডিটেক্টর অনুযায়ী, মাত্র দুই ঘণ্টার ব্যবধানে ৩৭৭টিরও বেশি বজ্রপাতের ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে, যা স্বাভাবিকের চেয়ে অনেকটাই বেশি। এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ফলে শহর ও শহরতলির সাধারণ মানুষের মধ্যে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

আলিপুর আবহাওয়া দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ঝাড়খণ্ড থেকে গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ হয়ে ওড়িশা পর্যন্ত বিস্তৃত একটি নিম্নচাপ অক্ষরেখার প্রভাবেই দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় এমন দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। আবহাওয়াবিদদের মতে, এদিন কলকাতার আকাশে কিউমুলোনিম্বাস বা বজ্রগর্ভ মেঘের বিশাল স্তম্ভ তৈরি হয়েছিল। এই মেঘের অভ্যন্তরে প্রচুর পরিমাণে বৈদ্যুতিক আধান বা চার্জ জমা হয় এবং তা দ্রুত ভারসাম্য হারিয়ে ফেললে ঘনঘন বজ্রপাতের ঘটনা ঘটে।

আগামী সোমবার পর্যন্ত দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির হলুদ সতর্কতা জারি করেছে আবহাওয়া দপ্তর। এই সময়ে ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে বলেও পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। বিপদ এড়াতে দুর্যোগের সময় খোলা জায়গায় না থেকে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার জন্য সাধারণ মানুষকে বিশেষ পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। বিশেষ করে বজ্রপাতের সময় গাছের নিচে আশ্রয় নেওয়া অত্যন্ত বিপজ্জনক বলে সতর্ক করা হয়েছে।

এদিকে চলতি বছর প্রশান্ত মহাসাগরে শক্তিশালী ‘এল নিনো’ বা ‘গডজিলা এল নিনো’-র প্রভাবে ভারতে বর্ষা নিয়ে উদ্বেগের কালো মেঘ দেখা দিয়েছে। পূর্বাভাস বলছে, জুন থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশে স্বাভাবিকের তুলনায় প্রায় ৮ শতাংশ বৃষ্টিপাত কম হতে পারে, যা কৃষি উৎপাদন হ্রাস এবং খাদ্যশস্যের দাম বৃদ্ধির আশঙ্কা তৈরি করেছে। তবে আবহাওয়াবিদরা স্পষ্ট করেছেন যে, কলকাতার সাম্প্রতিক এই প্রবল বৃষ্টি ও বজ্রপাতের সঙ্গে এল নিনোর সরাসরি কোনো সম্পর্ক নেই। এটি একান্তই স্থানীয় আবহাওয়াগত পরিস্থিতি এবং নিম্নচাপের প্রভাবে সৃষ্ট বজ্রগর্ভ মেঘের ফল, যা বর্ষার প্রাক্কালে প্রকৃতির রুদ্ররূপেরই বহিঃপ্রকাশ।

বিজ্ঞাপন

তথ্যসূত্র: হিন্দুস্থান টাইমস

0%
0%
0%
0%