পিরোজপুর ও ঝালকাঠিতে ডেঙ্গুর প্রকোপ তীব্র, বিভাগে আক্রান্ত সাড়ে ১১ হাজার ছাড়াল

অপরিচ্ছন্ন জলাশয়, ময়লা নর্দমা আর স্থবির পানিতে মশার উপদ্রব আশঙ্কাজনক হারে বাড়লেও বরিশাল বিভাগে ডেঙ্গু পরিস্থিতি কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হচ্ছে না; বরং চলতি বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী বিভাগে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ১১ হাজার ৬০০ ছাড়িয়ে গেছে এবং প্রাণ হারিয়েছেন ১৮ জন। গত বছর বরগুনা জেলায় সংক্রমণ সবচেয়ে বেশি থাকলেও এবার পরিস্থিতি পাল্টে গিয়ে নতুন হটস্পট হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে পিরোজপুর ও ঝালকাঠি জেলা। সরকারি হাসপাতালের পাশাপাশি বেসরকারি ক্লিনিকগুলোতেও উপচে পড়া ভিড় থাকায় প্রকৃত আক্রান্তের সংখ্যা আরও অনেক বেশি বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিভাগীয় প্রধান চিকিৎসাকেন্দ্র বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রোগীর প্রচণ্ড চাপের কারণে তৈরি হয়েছে চরম দুর্ভোগ। পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া থেকে ডেঙ্গু আক্রান্ত ছেলেকে নিয়ে আসা রুস্তম আলী জানান, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্লাটিলেট কমে যাওয়ার কথা জানার পর শের-ই-বাংলা মেডিকেলে পাঠানো হলেও সেখানে তিল ধারণের ঠাঁই না পেয়ে বাধ্য হয়ে বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছে। পটুয়াখালীর কলাপাড়া থেকে আসা আরেক রোগী খলিল জানান, সেখানে বেড না পাওয়া এবং পরিবেশ অনুকূলে না থাকায় এক দিন পরই তাকেও বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তর করতে হয়। এছাড়া শের-ই-বাংলা মেডিকেলে একই ওয়ার্ড ও বেডে সাধারণ রোগীদের সঙ্গে ডেঙ্গু রোগীদের গাদাগাদি করে রাখার অভিযোগ রয়েছে, যার ফলে মশারি ব্যবহার না করায় সেখানে চিকিৎসাধীন অন্য রোগীরাও নতুন করে মশার কামড়ের ঝুঁকিতে পড়ছেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বরিশাল বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিসংখ্যাম বলছে, গত ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিভাগের ছয়টি জেলার সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন ১১ হাজার ৬০০ জনের অধিক ডেঙ্গুরোগী। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ২ হাজার ৯৭০ জন রোগী শনাক্ত হয়েছেন পিরোজপুরে এবং ২ হাজার ২৩৪ জন রোগী নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ঝালকাঠি জেলা। অন্যদিকে ডেঙ্গুতে মৃত্যুর দিক থেকেও শীর্ষে রয়েছে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, যেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া পটুয়াখালী, পিরোজপুর ও ঝালকাঠিতে একজন করে মোট তিনজন মারা গেছেন। তুলনামূলক চিত্রে দেখা যায়, গত বছর পুরো বরিশাল বিভাগে প্রায় ২০ হাজার ডেঙ্গুরোগী শনাক্ত হওয়ার পাশাপাশি মারা গিয়েছিলেন ৪৫1 জন।

এদিকে ডেঙ্গু মোকাবিলায় বরিশাল সিটি করপোরেশন মশক নিধন কার্যক্রমের বাজেট ধারাবাহিকভাৱে বাড়ালেও এর সুফল নিয়ে দেখা দিয়েছে জনমনে তীব্র সংশয়। সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, দুই বছরের ব্যবধানে শুধু কীটনাশক ক্রয়ের বাজেট বাড়ানো হয়েছে প্রায় এক কোটি টাকা। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এ খাতে ৩ কোটি ৪ লাখ ২১ হাজার ৬০০ টাকা বরাদ্দ থাকলেও ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তা বাড়িয়ে ৩ কোটি ৮৩ লাখ ৪৫ হাজার ৪৫০ টাকা করা হয় এবং সর্বশেষ ২০২৬-২৭ অর্থবছরে তা উন্নীত হয়েছে ৪ কোটি টাকায়। তবে শুধু আর্থিক বরাদ্দ না বাড়িয়ে শহরের যত্রতত্র মশার প্রজননস্থল ধ্বংস এবং নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন নগরবাসী ও সচেতন মহল।

০%
০%
০%
০%