বলিউড অঙ্গনে প্রবীণ অভিনেতা নানা পাটেকরের প্রয়াণের পর যখন চারদিকে শোকের মাতম, ঠিক তখনই এক বিস্ফোরক মন্তব্য করে বিনোদন দুনিয়ায় চরম চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছেন চিত্রনায়িকা তনুশ্রী দত্ত। সোমবার সকালে এই প্রবীণ অভিনেতার চিরবিদায়ের খবর প্রকাশ্যে আসার পরপরই তাঁর মৃত্যুকে ‘শয়তানের মৃত্য়ু’ বলে কটাক্ষ করেন অভিনেত্রী। ২০০৮ সালে ‘হর্ন ওকে প্লিজ’ সিনেমার সেটে নানা পাটেকরের বিরুদ্ধে গুরুতর যৌন হেনস্থার অভিযোগ এনেছিলেন এই বাঙালি নায়িকা, যা পরবর্তীতে ২০১৮ সালে ভারতে ‘মিটু’ আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটিয়েছিল।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিও বার্তায় তনুশ্রী দাবি করেন, নানা পাটেকরের কারণে তাঁর জীবনের প্রতিটি দিন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছিল এবং ২০২০ সালের পর তাঁর প্রাণনাশের চেষ্টাও করা হয়েছিল। ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, কেউ মারা গেলেই কি তাঁর অতীত অপরাধ বা শোষণ মুছে যায়? ভুক্তভোগীদের মনের ক্ষত কখনো শুকায় না। নানা পাটেকরকে আন্ডারওয়ার্ল্ড ডন মানিয়া সুরভের মামাতো ভাই ও বলিউডের এক মাফিয়া হিসেবে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় অসুর আজ বিদায় নিয়েছে এবং তাঁর চোখের পানি ও প্রার্থনা বৃথা যায়নি।
তনুশ্রীর এই ধরনের আপত্তিকর মন্তব্যের জেরে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে ‘অল ইন্ডিয়ান সিনে ওয়ার্কার্স অ্যাসোসিয়েশন’। মঙ্গলবার সংগঠনের সভাপতি সুরেশ শ্যামলাল গুপ্ত এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে তনুশ্রীর মন্তব্যের তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, কারো মৃত্যুর পর এই ধরনের শব্দ ব্যবহার অত্যন্ত সংবেদনহীন এবং লজ্জাজনক। সংগঠনের পক্ষ থেকে এর চরম বিরোধিতা করা হলেও নিজের অবস্থানে সম্পূর্ণ অনড় রয়েছেন তনুশ্রী।
অভিনেত্রী স্মরণ করিয়ে দেন যে, ২০১৮ সালে তিনি থানায় মামলা করলেও প্রমাণের অভাবে পুলিশ তা বন্ধ করে দেয় এবং পরবর্তীতে ২০২৫ সালে মুম্বাই আদালত সময়সীমা পার হওয়ার অজুহাতে মামলাটি খারিজ করে দেয়। তনুশ্রীর স্পষ্ট প্রশ্ন, একজন মৃত মানুষকে কিংবদন্তি তকমা দিয়ে তাঁর অতীত অপরাধগুলো সমাজ কীভাবে ভুলে যেতে পারে! ২৪ বছর বয়সে ক্যারিয়ারের তুঙ্গে থাকা অবস্থায় নানা পাটেকরের কারণে যে মানসিক ট্রমার শিকার হয়েছিলেন, তা স্মরণ করে অভিনেত্রী তাঁকে ‘মহাশয়তান’ বলে অভিহিত করেছেন।