কুমিল্লায় স্কুলছাত্রী জান্নাতুল তাজমিন হত্যায় সন্দেহভাজন অটোরিকশাচালক সুমন গ্রেপ্তার

কুমিল্লার লালমাই উপজেলায় সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী জান্নাতুল তাজমিন (১৪) হত্যার ঘটনায় জড়িত সন্দেহে সুমন নামের এক সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালককে চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ। শুক্রবার (৮ অক্টোবর) দুপুরে পরিচালিত বিশেষ অভিযানে তাকে আটক করা হয়। জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মো. লুৎফর রহমান গণমাধ্যমকে এই গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই অভিযুক্ত সুমন সম্পূর্ণ আত্মগোপনে চলে যান। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিতে তিনি কোনো ধরনের মোবাইল বা ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহার করেননি। এমনকি তার কোনো আঙুলের ছাপযুক্ত জাতীয় পরিচয়পত্রও না থাকায় তাকে শনাক্ত করতে বেশ বেগ পেতে হয়। পরবর্তীতে নিজস্ব গোয়েন্দা নেটওয়ার্ক ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তার বাইরে থেকে তাকে চট্টগ্রামের একটি স্থান থেকে আটক করা হয়। বর্তমানে তাকে কুমিল্লায় আনার প্রক্রিয়া চলছে এবং জিজ্ঞাসাবাদেই এই হত্যাকাণ্ডে তার সুনির্দিষ্ট সম্পৃক্ততার বিষয়টি পরিষ্কার হবে।

গ্রেপ্তারকৃত অটোরিকশাচালক সুমন চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার বাসিন্দা। তিনি লালমাই উপজেলার জগতপুর এলাকার তাজুল ইসলামের মেয়েকে বিয়ে করার সুবাদে ওই এলাকায় ঘরজামাই হিসেবে বসবাস করতেন। তিনি যে সিএনজিচালিত অটোরিকশাটি চালাতেন, তা বাগমারা এলাকার মনির হোসেনের মালিকানাধীন ছিল এবং তিনি তা ভাড়ায় চালাতেন।

তদন্ত সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকালে কুমিল্লার লালমাই উপজেলার জগতপুর গ্রামের একটি ধানক্ষেত থেকে জান্নাতুল তাজমিনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত তাজমিন মূলত যশোর সদর উপজেলার ছাতিয়াতলা গ্রামের আব্দুল আলিমের মেয়ে এবং সে কুমিল্লা নগরীর ফরিদা বিদ্যায়তন স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। তার বাবা আব্দুল আলিম একটি ওষুধ কোম্পানিতে চাকরির সুবাদে পরিবার নিয়ে কুমিল্লা নগরীর রেসকোর্স এলাকার একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। ৪ অক্টোবর সকালে বান্ধবীর বাসায় যাওয়ার কথা বলে সে বাসা থেকে বের হয়েছিল।

নিখোঁজ হওয়ার দিন অর্থাৎ বুধবার (৭ অক্টোবর) রাত ১২টা ১৯ মিনিটের দিকে তাকে শেষবারের মতো কুমিল্লার হোটেল নূরজাহানের সামনে দেখা যায়। এরপর রাত ২টা ৫৮ মিনিটে তার বাবার হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে একটি লাইভ লোকেশন পাঠিয়ে তাকে দ্রুত নিয়ে যাওয়ার আকুতি জানিয়ে বার্তা পাঠানো হয়। তবে গভীর রাত হওয়ায় বাবা ঘুমিয়ে থাকায় সেই বার্তা দেখতে পাননি। পরদিন সকালে অজ্ঞাতপরিচয় হিসেবে পুলিশ তার মরদেহ উদ্ধার করে এবং মরদেহের পাশ থেকে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশাও জব্দ করা হয়। পরে পরিবারের সদস্যরা এসে তার মরদেহ শনাক্ত করেন। এই ঘটনায় নিহত তাজমিনের বাবা আব্দুল আলিম বাদী হয়ে লালমাই থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার ও নেপথ্যের প্রকৃত দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় এলাকাবাসী ও নিহতের পরিবার।

০%
০%
০%
০%