পদ্মা ও মেঘনা নদীর অভয়াশ্রমে মা ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করতে ২২ দিনের দেশব্যাপী ইলিশ ধরার নিষেধাজ্ঞা শুরু হতে যাচ্ছে, আর এর ঠিক প্রাক্কালে বুধবার (৭ অক্টোবর) রাত ১২টার পর থেকে কার্যকর হওয়া এই নিষেধাজ্ঞা ঘিরে চাঁদপুরের মাছঘাটগুলোতে ইলিশের চড়া দাম লক্ষ্য করা গেছে।
নিষেধাজ্ঞার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে বুধবার সকালে চাঁদপুর বড় স্টেশন মাছঘাটে গিয়ে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় পরিলক্ষিত হয়। তবে বাজারে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় আকাশচুম্বী দামে বিক্রি হয়েছে রূপালি ইলিশ। শেষ মুহূর্তে ঘাটে মাত্র ৪০০ মণ মাছ সরবরাহ হয়েছে। আকারভেদে প্রতি কেজি দেড় ওজনের ইলিশ ৩ হাজার ২০০ টাকা, ১ কেজি ২০০ গ্রামের ইলিশ ৩ হাজার টাকা, ১ কেজির ইলিশ ২ হাজার ৬০০ টাকা, ৮০০ থেকে ৯০০ গ্রামের ইলিশ ২ হাজার ২০০ টাকা এবং ৫০০ থেকে ৭০০ গ্রামের ইলিশ ১ হাজার ৮০০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। অতিরিক্ত দামের কারণে অনেক ক্রেতাই প্রয়োজনীয় মাছ কিনতে না পেরে খালি হাতে বাড়ি ফিরেছেন।
বাজার করতে আসা কচুয়ার বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম জানান, সাধারণ মানুষের আয়ের তুলনায় ইলিশের দাম এত বেশি যে তা নিম্ন ও মধ্যবিত্তের নাগালের সম্পূর্ণ বাইরে চলে গেছে। শহরের আরেক ক্রেতা সফিকুর রহমান উল্লেখ করেন, নিষেধাজ্ঞার ঠিক আগমুহূর্তে মাছের চেয়ে বাজারে ক্রেতার সংখ্যা কয়েক গুণ বেশি ছিল।
মাছঘাট সূত্রে জানা যায়, নিষেধাজ্ঞার আগের দিনে বড় মাছঘাটগুলোতে পর্যাপ্ত ইলিশ আমদানির আশা করা হলেও তা পূরণ হয়নি। চাঁদপুর মাছ ঘাটের ইলিশ বিক্রেতা নবীর হোসেন ও ক্রেতা সম্রাট বেপারী জানান, গত বছরের তুলনায় এবারের নিষেধাজ্ঞার আগের দিনে ঘাটে ইলিশের আমদানি বেশ কম ছিল, যা চড়া দামের অন্যতম প্রধান কারণ।
চাঁদপুর মৎস্য বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক শবে বরাত জানান, গত বছরের তুলনায় এ বছর ইলিশের প্রাপ্তি কম, এবং গত দুই দিনের তুলনায় বুধবার মাছের সরবরাহ আরও কমে গেছে। কাঙ্ক্ষিত সরবরাহ না থাকায় এবং ক্রেতাদের অতিরিক্ত চাহিদার কারণেই মূলত বাজারে দাম চড়া রয়েছে বলে তিনি যোগ করেন।