হাঁস পালনের মাধ্যমে পুষ্টি চাহিদা পূরণ ও কর্মসংস্থানের ওপর জোর দিলেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী

পুকুর, নালা, জলাশয় ও খালের পাড়ে হাঁস পালনের মাধ্যমে ডিমের উৎপাদন বহুগুণ বাড়ানোর পাশাপাশি সাধারণ মানুষের জন্য ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সকাল ১১টার দিকে পঞ্চগড় জেলা প্রশাসন ও জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের যৌথ আয়োজনে ‘বিশ্ব ডিম দিবস’ উপলক্ষ্যে এক বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন।

জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রতিমন্ত্রী বলেন, ডিম উৎপাদনে কেবল বড় খামারিদের ওপর নির্ভর না করে দেশের তরুণ সমাজ ও কৃষকদেরও এগিয়ে আসতে হবে। পুকুর, নালা, জলাশয় এবং বাড়ির আঙিনার আশপাশে হাঁস চাষের মাধ্যমে সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে কৃষক এবং ছাত্রছাত্রীরা নিজেদের পুষ্টির চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি অর্থনৈতিকভাবেও লাভবান হতে পারেন।

পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন কার্যক্রমের সঙ্গে এই উদ্যোগের যোগসূত্র রয়েছে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, প্রধানমন্ত্রী খাল খননের পাশাপাশি খালের পাড়ে হাঁস পালনে সাধারণ মানুষকে উৎসাহিত করছেন। এর ফলে একদিকে যেমন গ্রামীণ অর্থনীতি চাঙ্গা হবে, অন্যদিকে বাজারে ডিমের সহজলভ্যতা ও পুষ্টির ঘাটতি পূরণ করা সম্ভব হবে। তিনি পঞ্চগড়বাসীর পাশাপাশি সারা দেশের মানুষকে ডিমের পুষ্টিগুণ সম্পর্কে সচেতন হওয়ার এবং তা সবার নাগালে পৌঁছে দেওয়ার আহ্বান জানান।

শিশুদের মেধার বিকাশ, সুস্বাস্থ্য ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে পুষ্টিকর খাবারের কোনো বিকল্প নেই উল্লেখ করে ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, বিশ্ব ডিম দিবস কেবল একটি নির্দিষ্ট দিনে উদযাপনের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা যাবে না। ডিমের পুষ্টিগুণ সম্পর্কে ব্যাপক জনসচেতনতা তৈরি করে একে সাধারণ মানুষের আরও কাছাকাছি নিয়ে যেতে হবে এবং এই উদ্যোগ সারা দেশে ছড়িয়ে দিতে হবে।

পঞ্চগড়ের জেলা প্রশাসক শুকরিয়া পারভিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. নুরুল ইসলাম, প্রাণিসম্পদের কৃত্রিম প্রজনন কেন্দ্রের উপপরিচালক ডা. মো. শহিদুল ইসলামসহ জেলা প্রশাসন ও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

০%
০%
০%
০%