ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে প্রচারণার সময়সীমা নিয়ে নির্বাচন কমিশনের দেওয়া ব্যাখ্যায় অসঙ্গতির অভিযোগ তুলে কমিশনকে মেরুদণ্ড সোজা করে নিরপেক্ষ দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বিকেলে ঠাকুরগাঁও পৌর শহরের কলেজপাড়া এলাকায় জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্দ এবং মতবিনিময় সভা শেষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তিনি রিটার্নিং কর্মকর্তা ও পুলিশ প্রশাসনকে কোনো রাজনৈতিক দলের কাছে নমনীয় না হয়ে জনগণের কাছে দায়বদ্ধ থেকে কাজ করার তাগিদ দেন।
সংবাদ সম্মেলনে অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, আগামী ২৯ অক্টোবরের এই উপনির্বাচনে প্রতীক বরাদ্দ ও আচরণবিধি নিয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তার সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেখানে প্রচারণা শুরুর সময় নিয়ে নির্বাচন কমিশন যে ব্যাখ্যা দিয়েছে, তাতে স্পষ্ট অসঙ্গতি রয়েছে। কমিশন ২১ দিন আগে থেকেই প্রচার চালানোর যে সুযোগের কথা বলছে, তা অতীতে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কখনো দেখা যায়নি। বিশেষ করে ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এর জাতীয় নির্বাচনেও কমিশন বা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এ বিষয়ে কোনো কথা বলেননি। নিয়মানুযায়ী ৩০০ আসনেই প্রতীক বরাদ্দের পরই কেবল পোস্টার ও প্রচারসামগ্রী ছাপানোর বিধান রয়েছে। কমিশন প্রথমে এক ধরনের ব্যাখ্যা দিয়ে পরে তা পরিবর্তন করেছে উল্লেখ করে জামায়াতের এই শীর্ষ নেতা বলেন, এই ধরনের সিদ্ধান্ত ক্ষমতাসীন দলকে বাড়তি সুবিধা দেওয়ার নামান্তর এবং এটি অত্যন্ত অন্যায়।
পুলিশ প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনের ভূমিকার সমালোচনা করে জামায়াতের এই নেতা আরও বলেন, ঠাকুরগাঁওয়ের পুলিশ সুপার বলেছেন তারা ঘড়ির কাঁটা দেখে ১ বা ২ মিনিট সময়ের ব্যবধান দেখবেন। এ ধরনের বক্তব্য থেকেই প্রতীয়মান হয় যে প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিদের মেরুদণ্ড এখনো সোজা হয়নি। অতীতে বিভিন্ন নির্বাচনে এমন অব্যবস্থাপনার কথা কমিশনকে জানানো হলেও তারা দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনে ব্যর্থ হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। বিগত দিনে মাগুরা বা অন্য কোনো আলোচিত প্রহসনের নির্বাচনের পুনরাবৃত্তি ঠাকুরগাঁওয়ের মাটিতে দেখতে চায় না দেশবাসী—এমন মন্তব্য করে তিনি বলেন, নির্বাচনী মাঠে কোনো ধরনের পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ জাতি বরদাস্ত করবে না।
এর আগে বুধবার (৭ অক্টোবর) রাতে ঠাকুরগাঁও শহরজুড়ে নির্দিষ্ট সময়ের আগেই পোস্টার সাঁটানোর প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, প্রতীক বরাদ্দের আগেই যেভাবে পুরো শহরে পোস্টার লাগানো হয়েছে, তার বিরুদ্ধে প্রশাসনের অবিলম্বে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত ছিল। বর্তমান নির্বাচন কমিশন ও পুলিশ প্রশাসন যদি তাদের ওপর অর্পিত সাংবিধানিক দায়িত্ব নিরপেক্ষভাবে পালন করতে ব্যর্থ হয়, তবে তাদেরকে এর জন্য চরম মাসুল দিতে হবে বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন তিনি।
১ আসনের উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২৯ সেপ্টেম্বর মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে ছয়জন প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়। পরবর্তীতে ৫ অক্টোবর দলীয় সিদ্ধান্তের প্রেক্ষাপটে বিএনপির জেলা সহসভাপতি মোয়াজ্জেম হোসেন মাসুদ প্রার্থিতা প্রত্যাহার করায় দলটির একক প্রার্থী হিসেবে মির্জা ফয়সল আমীন মাঠে রয়েছেন। ৭ অক্টোবর ছিল প্রার্থিতা প্রত্যাহারের নির্ধারিত শেষ দিন এবং বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) প্রার্থীদের মাঝে প্রতীক বরাদ্দ সম্পন্ন হয়েছে। সদর, রুহিয়া ও নবগঠিত ভূল্লী উপজেলা নিয়ে গঠিত এই আসনে মোট ভোটার ৫ লাখ ১৬ হাজার ১৩৮ জন; যার মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৫০ হাজার ৫৩ জন, নারী ভোটার ২ লাখ ৫৬ হাজার ৫৭২ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন চারজন। ২২টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত এই নির্বাচনী এলাকায় সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করতে প্রশাসনের প্রতি কঠোর নজরদারির জোরালো দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় ভোটার ও সচেতন নাগরিক সমাজ।