রাজবাড়ীতে কলেজছাত্র চৌধুরী ফুয়াদ হাসান রোহান (১৯) হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এর জের ধরে শনিবার (১০ অক্টোবর) দুপুরে সদর উপজেলার দাদশী ইউনিয়নের ধুলদী রঘুনাথপুর এলাকায় বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী আলাল সরদার, লাল চাঁদ সরদার ও ফিরোজ সরদারের বাড়িতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেন।
ঘটনার পরপরই এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস, জেলা পুলিশ, গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) এবং উপজেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে যৌথভাবে কাজ শুরু করেন।
রাজবাড়ী ফায়ার সার্ভিসের সাব-অফিসার হাফিজুর রহমান জানান, তিনটি বাড়িতে আগুন দেওয়ার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তাদের দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। এ সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রশাসন সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করে।
পরিস্থিতি নিয়ে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফয়জুর রহমান জানান, রোহান হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বাড়িগুলোতে উত্তেজিত জনতা আগুন দেয়। আগুন যেন আশপাশের অন্যান্য বসতবাড়িতে ছড়িয়ে না পড়ে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি না ঘটে, সেজন্য তাৎক্ষণিকভাবে প্রয়োজনীয় সব প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
এদিকে নিহত কলেজছাত্র রোহানের বাবা মো. ফরহাদ চৌধুরী অভিযোগ করেন, পূর্ববিরোধের জেরে সুনির্দিষ্ট টাকার বিনিময়ে সন্ত্রাসী ভাড়া করে তার ছেলেকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। তিনি একমাত্র সন্তানের এই নির্মম হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত ফাঁসি এবং দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেন।
বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ও নিহতের স্বজনরা জানান, রোহান হত্যা মামলার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে। কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি যেন অযথা হয়রানির শিকার না হন এবং প্রকৃত খুনিরাও যেন কোনোভাবেই ছাড় না পায়—এমনটাই দাবি করে তারা এলাকায় দ্রুত কঠোর বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। বর্তমানে পুরো এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করলেও অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের মাধ্যমে পরিস্থিতি শান্ত রাখার চেষ্টা চলছে।