শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে মানুষ ও বন্যহাতির দীর্ঘদিনের দ্বন্দ্ব নিরসনে আয়োজিত গুরুত্বপূর্ণ একটি মতবিনিময় সভায় কয়েক দফা বিদ্যুৎ বিভ্রাটের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (১০ অক্টোবর) বিকেল ৪টার দিকে সীমান্তবর্তী গারো পাহাড় সংলগ্ন ঝিনাইগাতী উপজেলা পরিষদ হলরুমে অনুষ্ঠিত এই সভায় এমন অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে উপস্থিত অতিথি, প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যে অসন্তোষ ও বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়।
শেরপুরের জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিনের সভাপতিত্বে আয়োজিত ওই সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টু। এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শেরপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাহমুদুল হক রুবেল এবং প্রধান বন সংরক্ষক মো. আমির হোসাইন চৌধুরী। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বন বিভাগের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা, জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের প্রধান এবং জেলা ও স্থানীয় বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।
হাতি দ্বন্দ্ব ও এর স্থায়ী সমাধানের মতো একটি গুরত্বপূর্ণ বিষয়ে যখন আলোচনা চলছে, ঠিক তখনই সভাকক্ষে কয়েক দফা বিদ্যুৎ চলে যায়। এতে তীব্র গরমে চরম দুর্ভোগের শিকার হন আমন্ত্রিত অতিথিরা। এ সময় সভাকক্ষের পরিবেশ বিঘ্নিত হওয়ায় উপস্থিত উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যে তীব্র বিরক্তি ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
পরিস্থিতি সামাল দিতে তাৎক্ষণিকভাবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্থানীয় বিদ্যুৎ বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয় এবং বিদ্যুৎ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীকে বিষয়টি অবহিত করা হয়। প্রশাসনের জোরালো হস্তক্ষেপের পর অনুষ্ঠানস্থলের বিদ্যুৎ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয় এবং নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের মধ্য দিয়ে সভার শেষ অংশ শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়।
এ বিষয়ে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শাহাবুদ্দিন জানান, বর্তমানে কোনো ধরনের লোডশেডিংয়ের শিডিউল নেই। তবে আকস্মিক কোনো লাইনে ত্রুটি বা যান্ত্রিক বিচ্যুতির কারণে সাময়িকভাবে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে থাকতে পারে। বিষয়টি খতিয়ে দেখে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।