পদ্মা নদীতে তীব্র স্রোতের কারণে দীর্ঘ ছয় দিন বন্ধ থাকার পর রাজবাড়ীর ধাওয়াপাড়া ও পাবনার নাজিরগঞ্জ নৌরুটে রবিবার (১১ অক্টোবর) বিকেল ৩টা ৫০ মিনিট থেকে ফেরি চলাচল পুনরায় শুরু হয়েছে। এর ফলে এ পথ দিয়ে যাতায়াতকারী যাত্রী ও পরিবহন চালকদের মাঝে সাময়িক স্বস্তি ফিরে এসেছে।
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসি) ধাওয়াপাড়া ফেরিঘাটের সহ-ব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) মো. রবিউল ইসলাম জানান, উজান থেকে হঠাৎ প্রবল বেগে পানি নেমে আসায় পদ্মা নদীতে স্রোতের তীব্রতা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। এতে নৌযান চলাচল চরম ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ায় ৫ অক্টোবর দুপুর ১টা ৪০ মিনিট থেকে ১০ অক্টোবর পর্যন্ত এই রুটে ফেরি চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রাখতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ।
ফেরি চালুর আগে রবিবার সকাল ১১টা ১০ মিনিটে ধাওয়াপাড়া থেকে নাজিরগঞ্জের উদ্দেশে একটি পরীক্ষামূলক ফেরি চালানো হয়। ওই সময় নৌরুটে তীব্র নাব্যতা সংকটের বিষয়টি স্পষ্টভাবে ধরা পড়ে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আশঙ্কা প্রকাশ করে জানিয়েছেন, অবিলম্বে জরুরি ভিত্তিতে ড্রেজিং বা খনন কাজ পরিচালনা করা না হলে যেকোনো মুহূর্তে এই গুরুত্বপূর্ণ নৌরুটে ফেরি সার্ভিস আবারও বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
এ বিষয়ে বিআইডব্লিউটিসির পক্ষ থেকে জানানো হয়, নৌরুট সচল রাখতে ২২ সেপ্টেম্বর বিআইডব্লিউটিএর আরিচা ড্রেজিং ইউনিটের কাছে প্রয়োজনীয় খনন কাজের জন্য লিখিত চিঠি পাঠানো হয়েছে। এর আগেও পদ্মা নদীর তীব্র স্রোতের কারণে টানা ১৬ দিন ফেরি চলাচল বন্ধ থাকার পর ২২ সেপ্টেম্বর এই রুটে ফেরি সার্ভিস সচল করা হয়েছিল। কিন্তু চালুর মাত্র কয়েক দিনের মাথায় আবারও কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয় এই জনপদের মানুষকে।
এদিকে স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন, দীর্ঘদিন ধরে এই নৌরুটে পর্যাপ্ত সংখ্যক ফেরি না থাকার কারণে স্বাভাবিক পারাপার কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। নদীর তীব্র স্রোত ও নাব্যতা সংকটের পাশাপাশি অব্যবস্থাপনার কারণে এ ধরনের অচলাবস্থা তৈরি হয় বলে দাবি করেন তারা। তাই দ্রুততম সময়ের মধ্যে কার্যকর ড্রেজিং ও স্থায়ী সমাধানের মাধ্যমে নিরবচ্ছিন্ন ফেরি চলাচল নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী ও নিয়মিত যাতায়াতকারীরা।