প্রায় ৭০ প্রতিমায় পৌরাণিক কাহিনি, রাজবাড়ীতে ব্যতিক্রমী আয়োজন

রাজবাড়ী শহরের ধুঞ্চি পূর্বপাড়া সার্বজনীন দুর্গা মন্দিরে আসন্ন শারদীয় দুর্গোৎসবকে কেন্দ্র করে চলছে এক বিশাল কর্মযজ্ঞ, যেখানে পূজার চিরাচরিত আনুষ্ঠানিকতার পাশাপাশি যুক্ত হয়েছে শিল্প, সৃজনশীলতা ও পৌরাণিক উপাখ্যানের অভিনব উপস্থাপনা। আগামী মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে শুরু হতে যাওয়া এই উৎসবে মন্দির প্রাঙ্গণে ফুটিয়ে তোলা হচ্ছে শ্রীরামের অকালবোধন থেকে রাবণ বধের থিম শো, শ্রীকৃষ্ণের জন্ম থেকে কংসবধ পর্যন্ত পৌরাণিক ঘটনার সমাহার এবং আদি যোগী শিবের মনোমুগ্ধকর আলোকসজ্জা। সব মিলিয়ে মন্দিরটি পরিণত হতে চলেছে পৌরাণিক কাহিনি ও ধর্মীয় ঐতিহ্যের এক অনন্য মিলনমেলায়।

মন্দির কমিটি সূত্রে জানা গেছে, এর ধারাবাহিকতায় এবারও ৫২ খণ্ডের প্রতিমা সাজানো হচ্ছে, যার ভেতর প্রায় ৭০টি দৃষ্টিনন্দন প্রতিমা স্থান পাচ্ছে। বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে রাম-রাবণের যুদ্ধ, দুর্গাদেবীর আরাধনা এবং যুদ্ধে শ্রীরামকে সহায়তায় হনুমানের বিভিন্ন লৌকিক ও পৌরাণিক ভূমিকা ফুটিয়ে তোলা হচ্ছে। প্রায় দুই মাস ধরে দিন-রাত নিরলস পরিশ্রম করে চলেছেন পাঁচ থেকে সাতজন প্রতিমা শিল্পী। বর্তমানে মাটির কাজ শেষ করে চলছে নিখুঁত রঙের প্রলেপ দেওয়ার কাজ, যার পরপরই শুরু হবে প্রতিমার রাজকীয় সাজসজ্জা এবং চোখধাঁধানো আলোকসজ্জার কাজ। এই বিশেষ আয়োজনের কারণে অন্যান্য বছরের তুলনায় এ মন্দিরে প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হবে অতিরিক্ত দুই দিন পর।

এ বিষয়ে মন্দির কমিটির সহ-সভাপতি কিশোর কুমার গুহ জানান, ২০১৭ সাল থেকে তারা অত্যন্ত উৎসবমুখর পরিবেশে এই পূজা উদ্‌যাপন করে আসছেন এবং প্রতিবারই নতুন কিছু উপহার দেওয়ার চেষ্টা করেন। নিরাপত্তার বিষয়ে তিনি উল্লেখ করেন, মণ্ডপের সুরক্ষায় সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের পাশাপাশি সক্রিয় থাকবে স্বেচ্ছাসেবক দল। বিশেষ করে আশপাশের মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষের আন্তরিক সহযোগিতা এই আয়োজনকে আরও সুদৃঢ় করেছে, যা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক অনন্য উদাহরণ সৃষ্টি করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

মন্দির কমিটির সভাপতি শ্রীকান্ত কুমার বিশ্বাস রাহুল যোগ করেন, সনাতন ধর্মের সুপ্রাচীন ইতিহাস ও পৌরাণিক কাহিনি সম্পর্কে নতুন প্রজন্মকে ধারণা দিতে এবং দর্শনার্থীদের জ্ঞানার্জনের সুযোগ তৈরি করতেই এই আয়োজন করা হয়েছে। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব মানুষকে মণ্ডপে আসার আমন্ত্রণ জানিয়ে তিনি এই মহোৎসব সফল করতে সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা কামনা করেছেন। আয়োজকদের প্রত্যাশা, এই বর্ণিল থিম শো ও আলোকসজ্জা জেলাজুড়ে হাজার হাজার দর্শনার্থীকে বিমোহিত করবে।

এদিকে রাজবাড়ী জেলায় মোট ৪৬১টি পূজা মণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। জেলার সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে বহুমুখী ও কঠোর পদক্ষেপ। এ বিষয়ে রাজবাড়ীর পুলিশ সুপার মীর মনির হোসেন জানান, গুরুত্বপূর্ণ মন্দিরগুলোতে পর্যাপ্ত স্ট্যাটিক ফোর্স মোতায়েন থাকবে এবং এখন পর্যন্ত কোনো মণ্ডপকে অতিঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়নি। তবুও যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা প্রশাসন ও পূজা উদ্‌যাপন কমিটির সঙ্গে সমন্বয় করে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা বজায় রাখা হবে।

০%
০%
০%
০%