রাজবাড়ীর লালগোলা এলাকায় পদ্মা নদীতে ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা চলাকালীন পাবনা ও কুষ্টিয়ার দুটি প্রতিযোগী নৌকার মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় প্রায় ২০ জন মাঝি আহত হয়েছেন। শনিবার (১০ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে এই দুর্ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আহতদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
তিন দিনব্যাপী আয়োজিত এই নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতার আজ শনিবার ছিল সমাপনী দিন। বাইচের শেষ পর্যায়ে সন্ধ্যার দিকে পাবনার আমিনপুরের ‘নিউ শাড়িরভিটা’ এবং কুষ্টিয়ার ‘নিউ জনতা সংগ্রাম’ নামের নৌকা দুটির মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা শুরু হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, ‘নিউ শাড়িরভিটা’ নৌকাটি এগিয়ে যাওয়ার সময় ‘নিউ জনতা সংগ্রাম’ সেটিকে পাশ থেকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এর ফলে ‘নিউ শাড়িরভিটা’ নৌকাটি মাঝ নদীতে ডুবে যায়।
ডুবে যাওয়া নৌকার মাঝিরা নদীতে সাঁতরে বাঁচার চেষ্টা করার সময় প্রতিপক্ষ নৌকার লোকজন বাঁশ, লাঠি ও বৈঠা নিয়ে তাদের ওপর চড়াও হন বলে অভিযোগ উঠেছে। হামলায় আহতদের মধ্যে রাকিব (১৭), রওশন (৪০), মাসুদ শেখ (৩০), শাহিন শেখ (৩৫), সুজাত শেখ (২৬), লতিফ সরদার (৩৫), শরিফ শেখ (৩০), সাদ্দাম (৩৭), বাবলু (৪০), ইসরাফিল (৪৭), হাবিব (২৫), কায়েস (১৮), আলাউদ্দিন (৩৫) ও শফিকুল ইসলামসহ (৪৪) অন্তত ২০ জন মাঝি গুরুতর আঘাত পান।
দুর্ঘটনার পরপরই দৌলতদিয়া নৌ পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা স্পিডবোট নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধারকাজে অংশ নেন। পাশাপাশি জেলা পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস এবং স্থানীয় নৌকা বাইচ কমিটির সদস্য ও সাধারণ মানুষ ট্রলার নিয়ে নদীতে তল্লাশি চালিয়ে প্রায় ৭৫ থেকে ৮০ জন মাঝিকে নিরাপদে উদ্ধার করেন। পরে ফায়ার সার্ভিস ও নৌ পুলিশের সহায়তায় আহতদের দ্রুত রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়।
রাজবাড়ী সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. তমাল জানান, আহতদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের হাসপাতালে ভর্তি রেখে নিবিড় পর্যবেক্ষণ ও চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। অন্যদের জরুরি বিভাগে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
দৌলতদিয়া নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ (ওসি) ত্রিনাথ সাহা জানান, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস যৌথভাবে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করে বড় ধরনের প্রাণহানি রোধ করতে সক্ষম হয়েছে। নৌকা বাইচ কমিটির সদস্য গোলাম মোস্তফা জানান, একটি অনাকাঙ্ক্ষিত সংঘর্ষের কারণে উৎসবমুখর পরিবেশের সমাপ্তিটা দুঃখজনক হয়ে দাঁড়াল। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয়রা।