জেলা পর্যায়ে শিল্প-সংস্কৃতিতে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০২০ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ২৯ জন গুণী শিল্পী এবং একটি সৃজনশীল সংগঠনকে মর্যাদাপূর্ণ ‘শিল্পকলা একাডেমি সম্মাননা’ পদক প্রদান করা হয়েছে। সম্প্রতি জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানে কৃতি শিল্পীদের হাতে এই পদক তুলে দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে গুণীজনদের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেন জাতীয় সংসদের হুইপ এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি জি কে গউছ এমপি। জেলা শিল্পকলা একাডেমির আয়োজনে এই অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষ।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক ড. জি এম সরফরাজ এবং পুলিশ সুপার তারেক মাহমুদ। এছাড়াও অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক জাহানারা বেগম, জাসাস জেলা সভাপতি মিজানুর রহমান চৌধুরী এবং জেলা কালচারাল অফিসার অসিত বরণ দাসসহ স্থানীয় সাংস্কৃতিক ব্যক্তিবর্গ।
আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সালভিত্তিক ক্যাটাগরিতে পদকপ্রাপ্তদের নাম ঘোষণা ও সংবর্ধনা জানানো হয়। ২০২০ সালের জন্য পদক লাভ করেন কণ্ঠসংগীতে গোলাম মোস্তুফা রফিক, নাট্যকলায় মো. সফিকুর রহমান চৌধুরী, সৃজনশীল সংগঠক হিসেবে ইলিয়াছ বখত চৌধুরী জালাল, সৃজনশীল সংস্কৃতি গবেষক হিসেবে তাহমিনা বেগম গিনি এবং যাত্রাশিল্পী হিসেবে অবনি হোম দাস।
২০২১ সালের পদকপ্রাপ্ত গুণী শিল্পীরা হলেন কণ্ঠসংগীতে তাপস কৃষ্ণ মহারত্ন, নাট্যকলায় ত্রিলোক কান্তি চৌধুরী, লোক সংস্কৃতিতে আশরাফুল করিম ও যাত্রাশিল্পী জাহির মিয়া। এছাড়া এই বছর আঞ্চলিক সৃজনশীল সংগঠন হিসেবে সুরবিতান ললিতকলা প্রশিক্ষণ কেন্দ্রকে সম্মাননা জানানো হয়।
২০২২ সালের জন্য সম্মাননা অর্জন করেন কণ্ঠসংগীতে প্রভুদ সূত্রধর, নাট্যকলায় বাবুল আহমেদ মল্লিক, চারুকলায় বন্ধু মঙ্গল রায়, যন্ত্রসংগীতে হরিপদ দাশ এবং যাত্রাশিল্পী জনেশ দাস।
২০২৩ সালে পদকপ্রাপ্তরা হলেন কণ্ঠসংগীতে সরোজ কান্তি দাশ, নাট্যকলায় শাহ আলম চৌধুরী মিন্টু, নৃত্যকলায় জেসমিন আরা খানম, চারুকলায় অসীম বণিক এবং যন্ত্রসংগীতে টেনু মিয়া।
২০২৪ সালের সম্মাননার জন্য মনোনীত হন কণ্ঠসংগীতে কাজল চন্দ্র গোপ, নাট্যকলায় হারুন সাঁই, চলচ্চিত্রে মুকতাদির ইবনে সালাম, চারুকলায় তরুন কুমার রায় এবং ফটোগ্রাফিতে সৌরভ বিকাশ দেব।
পরিশেষে, ২০২৫ সালের পদকপ্রাপ্ত গুণী শিল্পীরা হলেন কণ্ঠসংগীতে সৈয়দ আশিকুর রহমান, নাট্যকলায় পার্থ প্রতীম সেন, নৃত্যকলায় গৌতম দাস সুমন, চারুকলায় মীর কমর উদ্দিন এবং যন্ত্রসংগীতে সুবীর কান্তি রায়। বর্ণাঢ্য এই আয়োজনের মাধ্যমে স্থানীয় শিল্প ও সংস্কৃতির সাথে জড়িত গুণীজনদের কাজের যথাযথ মূল্যায়ন করা হয়।