কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলায় ঘোড়াউত্রা নদীতে এক জাঁকজমকপূর্ণ ও ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত শুক্রবার বিকেল ৫টায় নিকলী উপজেলা সম্মিলিত নাগরিক সমাজের উদ্যোগে আয়োজিত এই প্রতিযোগিতায় বিভিন্ন এলাকার মোট ১২টি নৌকা অংশ নেয়। দীর্ঘ ১০ বছর ধরে এই ঐতিহ্যবাহী আয়োজন বন্ধ থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যায়।
ঐতিহ্যবাহী এই নৌকা বাইচকে কেন্দ্র করে নদীর তীরে এক উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। প্রতিযোগিতা বিকেল ৫টায় শুরু হলেও সকাল থেকেই দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত এই আয়োজন উপভোগ করতে আশপাশের এলাকার হাজার হাজার মানুষ সড়ক ও নৌপথে অনুষ্ঠানস্থলে আসতে শুরু করেন। পার্শ্ববর্তী বাজিতপুর, কটিয়াদী, অষ্টগ্রাম, ইটনা, মিঠামইন, তাড়াইল, করিমগঞ্জ ও কুলিয়ারচর উপজেলাসহ কিশোরগঞ্জ শহর থেকেও বিপুলসংখ্যক দর্শক নৌকা বাইচ দেখতে ভিড় জমান। ছোট-বড় নৌকা নিয়ে নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে অবস্থান নেন দর্শনার্থীরা।
প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া নৌকাগুলো বৈঠার ছন্দে দ্রুতগতিতে নদীর বুক চিরে এগিয়ে চললে দর্শকদের মাঝে ব্যাপক উন্মাদনা দেখা দেয়। করতালি ও নানা ধরনের উচ্ছ্বাসে মুখর হয়ে ওঠে ঘোড়াউত্রা নদীর দুই পাড়। ছোট নৌকার পাশাপাশি বড় নৌকার প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া দলগুলোর গতি ও নৈপুণ্য উপস্থিত দর্শকদের মুগ্ধ করে। নাতনিকে নিয়ে নৌকা বাইচ দেখতে আসা ৫৫ বছর বয়সী নাজমা বেগম জানান, তার ১০ বছর বয়সী নাতনি এর আগে কখনো নৌকা বাইচ দেখেনি এবং এই প্রতিযোগতা দেখে তারা ভীষণ আনন্দিত।
নিকলী উপজেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি মো. মানিক মিয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মজিবুর রহমান ইকবাল। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন নিকলী উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মোকারম সর্দার, কেন্দ্রীয় কৃষকদলের সাবেক নেতা হাজী মাসুক মিয়া এবং নিকলী উপজেলা যুবদলের সাবেক আহ্বায়ক আবদুল মান্নানসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
উল্লেখ্য, প্রতিবছর উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এই নৌকা বাইচ অনুষ্ঠিত হলেও দীর্ঘ এক দশক তা বন্ধ ছিল। তবে এবার বিএনপির দুই পক্ষের উদ্যোগে পৃথকভাবে দুটি নৌকা বাইচ অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে গত ৯ সেপ্টেম্বর সোয়াইজনী নদীতে এক পক্ষের উদ্যোগে এবং পরবর্তীতে শুক্রবার ঘোড়াউত্রা নদীতে অপর পক্ষের উদ্যোগে এই আয়োজন সম্পন্ন হলো।
প্রতিযোগিতা শেষে ফাইনাল রাউন্ডে বিজয়ী দলগুলোর হাতে পুরস্কার তুলে দেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ও স্থানীয় সাংসদ শেখ মজিবুর রহমান ইকবাল। বড় নৌকার ক্যাটাগরিতে প্রথম পুরস্কার হিসেবে একটি মোটরসাইকেল অর্জন করে নিকলী সদরের মোহরকোনার কেশবপুর একতা সংঘের নৌকা। দ্বিতীয় পুরস্কার হিসেবে একটি ফ্রিজ লাভ করে সদর ইউনিয়নের নাগার্ছিহাটি গ্রামের নৌকা এবং তৃতীয় পুরস্কার একটি এলইডি টিভি জিতে নেয় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার একটি নৌকা। এ ছাড়া ছোট নৌকার প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অর্জন করে লাহুন্দের নৌকা এবং পুরস্কার হিসেবে একটি মুঠোফোন জিতে নেয় তারা।