শিক্ষার মানোন্নয়নে সর্বোচ্চ বাজেটের পাশাপাশি আমূল সংস্কারের ঘোষণা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজের

সিলেটের জৈন্তাপুর ও গোয়াইনঘাট উপজেলার বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শনকালে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেছেন, শিক্ষাকে জাতির সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচনা করে বর্তমান সরকার ইতিহাসের সর্বোচ্চ শিক্ষা বাজেট বরাদ্দ নিশ্চিত করেছে। আগামী চার বছরের মধ্যে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করে যাচ্ছে।
শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়নে অবকাঠামোগত উন্নয়ন, প্রযুক্তিনির্ভর পাঠদান, আধুনিক কারিকুলাম প্রণয়ন এবং শিক্ষক প্রশিক্ষণের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে। শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের বাংলা পড়া, লেখা ও গণিতে ভিত্তিমূলক দক্ষতা অর্জনে নতুন মূল্যায়ন কাঠামো তৈরি করা হচ্ছে। সরকারি-বেসরকারি নির্বিশেষে সব প্রাথমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে সুনির্দিষ্ট নীতিমালা ও মানদণ্ডের আওতায় কাজ করার কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী।
প্রতিমন্ত্রী জানান, সম্প্রতি সিলেট বিভাগে আয়োজিত কর্মশালার মাধ্যমে নতুন মূল্যায়ন পদ্ধতি ও প্রশাসনিক তদারকির বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আগামী ১৭ আগস্টের মধ্যে দেশের প্রতিটি বিভাগে এমন কর্মশালা সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে। দায়িত্ব পালনে কোনো ধরনের অবহেলা পরিলক্ষিত হলে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি।
ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মাতৃভাষাভিত্তিক শিক্ষা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে ববি হাজ্জাজ জানান, এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব বা তথ্য পাওয়া গেলে মন্ত্রণালয় পর্যালোচনার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে। তিনি উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে শিক্ষাব্যবস্থায় মৌলিক সংস্কার সাধন সরকারের অন্যতম প্রধান অঙ্গীকার। পরিকল্পিত সংস্কার ও দক্ষ প্রশাসনের মাধ্যমে আগামী পাঁচ বছরে দেশের শিক্ষাঙ্গনে দৃশ্যমান ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
পরিদর্শনকালে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, সিলেট বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ের শিক্ষা কর্মকর্তারা এবং স্থানীয় প্রশাসনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।