বিতর্কিত অঙ্গভঙ্গি বিশ্বকাপ থেকে শন ইভান্সকে সরানোর দাবি ফার নেটওয়ার্কের

বিশ্বকাপের মঞ্চে বর্ণবাদ ও উসকানিমূলক আচরণের অভিযোগে তোলপাড় শুরু হয়েছে। ফুটবলে বৈষম্যবিরোধী নজরদারি সংস্থা ‘ফেয়ার নেটওয়ার্ক’ কড়া ভাষায় দাবি জানিয়েছে, চলতি ২০২৬ বিশ্বকাপের ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি বা ভিএআর প্যানেল থেকে অস্ট্রেলিয়ার শান ইভান্সকে অবিলম্বে সরিয়ে দেওয়ার জন্য। জার্মানি ও কুরাসাওয়ের মধ্যকার ম্যাচের প্রাক্কালে ক্যামেরা ব্রডকাস্টিংয়ের সময় ইভান্সের একটি বিতর্কিত হাতের ইশারা ঘিরে এই সমালোচনার ঝড় ওঠে।

বিজ্ঞাপন

ঘটনাটি ঘটে রবিবার হিউস্টনে অনুষ্ঠিত ম্যাচের আগে। সম্প্রচারের সময় যখন ভিএআর কর্মকর্তাদের কক্ষটি ক্যামেরায় দেখানো হচ্ছিল, তখন শান ইভান্স তার ডান হাতের আঙুল দিয়ে একটি বৃত্ত তৈরি করে ‘ওকে’ চিহ্নের মতো ভঙ্গি করেন। নিউ ইয়র্ক ভিত্তিক অ্যান্টি-ডিফামেশন লিগ ২০১৯ সালে এই বিশেষ ভঙ্গিটিকে শ্বেতাঙ্গ শ্রেষ্ঠত্ববাদের প্রতীক বা ঘৃণ্য চিহ্ন হিসেবে তালিকাভুক্ত করে। ফেয়ার নেটওয়ার্কের ভাষ্যমতে, বিশ্বজুড়ে চরমপন্থী গোষ্ঠীর কাছে এটি ‘হোয়াইট পাওয়ার’ বা শ্বেতাঙ্গ শক্তির প্রতীক হিসেবে পরিচিত।

ফেয়ার নেটওয়ার্ক তাদের বিবৃতিতে স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, এই ধরনের নব্য-নাৎসি মানসিকতা কোনোভাবেই ফুটবল মাঠে গ্রহণযোগ্য নয়। তাদের মতে, একজন ভিএআর কর্মকর্তা যখন জানেন যে কোটি কোটি দর্শক তাকে দেখছে, ঠিক সেই মুহূর্তে এমন বিদ্বেষপূর্ণ প্রতীক প্রদর্শন করা অত্যন্ত আপত্তিকর। এই ঘটনার পর বিশ্বকাপের পরবর্তী ম্যাচগুলোতে টিভি পরিচালকরা আর ভিএআর প্যানেলকে দর্শকদের সামনে পরিচয় করিয়ে দিচ্ছেন না বলে জানা গেছে।

যদিও শান ইভান্সের উদ্দেশ্য সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। অনেকে ধারণা করছেন, এটি কোনো রাজনৈতিক বার্তা হতে পারে, আবার কেউ কেউ একে শিশুদের জনপ্রিয় ‘সার্কেল গেম’ বা নিছক কৌতুক হিসেবে দেখছেন। তবে বর্ণবাদ বিরোধী সংগঠনগুলো এ ধরনের ব্যাখ্যা মানতে নারাজ। তাদের দাবি, বৈশ্বিক এই মহাযজ্ঞে এমন একটি চিহ্নের ব্যবহার কোনোভাবেই কাকতালীয় হতে পারে না।

বিজ্ঞাপন

ফিফার একজন দীর্ঘদিনের অংশীদার হিসেবে ফেয়ার নেটওয়ার্ক আন্তর্জাতিক ফুটবলে বর্ণবাদ, বৈষম্য এবং বিদ্বেষপূর্ণ স্লোগান রোধে কাজ করে আসছে। এই বিতর্কিত ঘটনার প্রেক্ষিতে ফিফা, ফুটবল অস্ট্রেলিয়া এবং প্রফেশনাল ফুটবল রেফারি অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে বিশ্বকাপের মতো মর্যাদাপূর্ণ টুর্নামেন্টে এই বিতর্ক যে বড় ধরনের অস্বস্তির সৃষ্টি করেছে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। ইভান্স বিশ্বকাপের জন্য ফিফার মনোনীত ৩০ জন ভিডিও রিভিউ অ্যানালিস্টের একজন হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এখন ফিফা কর্তৃপক্ষ এই কর্মকর্তার বিষয়ে কী পদক্ষেপ নেয়, তা দেখার অপেক্ষায় পুরো ফুটবল বিশ্ব।

0%
0%
0%
0%