সিয়েটলে শ্বাসরুদ্ধকর ড্রয়ের পর বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে মিসরের ঐতিহাসিক যাত্রা শুরু

যুক্তরাষ্ট্রের সিয়াটলে অনুষ্ঠিত ফিফা বিশ্বকাপের শ্বাসরুদ্ধকর লড়াইয়ে মিশরের সাথে ১-১ গোলে ড্র করে পয়েন্ট ভাগাভাগি করেছে ইরান। এই ড্রয়ের ফলে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব পেরোনোর ঐতিহাসিক কীর্তি গড়েছে মিশর। অন্যদিকে, ড্র করলেও শেষ ষোলোয় যাওয়ার ক্ষীণ আশা বাঁচিয়ে রেখেছে ইরান। টুর্নামেন্টের নিয়ম অনুযায়ী, সেরা আটটি তৃতীয় স্থান অর্জনকারী দলের মধ্যে একটি হিসেবে নকআউট পর্বে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে ‘টিম মেল্লি’ খ্যাত ইরানের সামনে, তবে সেটি নির্ভর করছে পরবর্তী ম্যাচগুলোর ফলাফলের ওপর।

বিজ্ঞাপন

ম্যাচটি ছিল রোমাঞ্চে ঠাসা। প্রথমার্ধেই পেনাল্টি মিসের হতাশা সঙ্গী হয়েছিল ইরানের। দ্বিতীয়ার্ধেও তারা বেশ কয়েকবার মিশরের রক্ষণভাগে আক্রমণ চালিয়েছে, কিন্তু ভাগ্য সহায় ছিল না। এমনকি অফসাইডের কারণে ইরানের একটি গোল ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি বা ভিএআর প্রযুক্তির সাহায্যে বাতিল করা হয়। এছাড়া ইরানের খেলোয়াড়দের একটি শট গোলপোস্টে লেগে ফিরে এলে জয় বঞ্চিত হয় তারা। ম্যাচ শেষে আল জাজিরার প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, মাঠের ভেতরে দুই দেশের সমর্থকদের মধ্যে সৌহার্দ্যের বহিঃপ্রকাশ ঘটলেও মাঠের বাইরে রাজনৈতিক উত্তাপের আঁচও ছিল স্পষ্ট।

ম্যাচ চলাকালীন স্টেডিয়ামের ভেতরে ছিল কানায় কানায় পূর্ণ দর্শক গ্যালারি। পুরো ৯০ মিনিটজুড়ে সমর্থকরা ‘ইরান’ ও ‘মিসর’ ধ্বনিতে মুখরিত রেখেছিল স্টেডিয়াম। মিশরের ঐতিহাসিক অর্জনে উল্লাসে ফেটে পড়েন ফারাওদের সমর্থকরা। ড্যানিয়েল সালিভ নামে এক মিশরীয় সমর্থক আবেগাপ্লুত কণ্ঠে জানান, বেলজিয়াম এবং নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে দুর্দান্ত খেলার পর এই অর্জন তাদের প্রাপ্য ছিল। খেলোয়াড়দের অদম্য প্রচেষ্টায় পুরো জাতি আজ গর্বিত।

এদিকে, ইরানের সমর্থকরা জয় না পাওয়ার আক্ষেপ করলেও খেলোয়াড়দের লড়াকু মানসিকতার প্রশংসা করেছেন। সাঈদ নাসিফ নামে এক ইরানি সমর্থক জানান, কঠোর প্রতিকূলতার মধ্যেও তাদের দল যে পারফরম্যান্স প্রদর্শন করেছে, তা প্রশংসার দাবি রাখে। খেলার রাজনীতিকরণের প্রচেষ্টার বিপরীতে স্টেডিয়ামের ভেতরেই অনেক দর্শককে ফুটবলীয় আবহে ঐক্যবদ্ধ হতে দেখা গেছে। গোল উদযাপনের পাশাপাশি দুই দেশের খেলোয়াড়দের একে অপরকে সান্ত্বনা দেওয়ার চিত্রও ছিল চোখে পড়ার মতো।

বিজ্ঞাপন

ফুটবল মাঠের বাইরে অবশ্য ভিন্ন চিত্র ছিল। গাজায় ইসরায়েলি আগ্রাসন এবং রাজনৈতিক অস্থিরতা নিয়ে বিভিন্ন প্রতিবাদী ব্যানার ও ফিলিস্তিনি পতাকা দেখা গেছে গ্যালারির বিভিন্ন অংশে। মাঠে আসা অনেক দর্শকই মনে করেন, যুদ্ধের বিভীষিকা আর রাজনীতির ঊর্ধ্বে মানবিকতা রক্ষা করাই এখন সময়ের দাবি। সব প্রতিকূলতা ও উত্তাপ ছাপিয়ে শেষ পর্যন্ত সিয়াটলের এই ম্যাচটি মিশরের ফুটবল ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। একটি ঐতিহাসিক পয়েন্ট অর্জন করে শেষ আটের স্বপ্ন জিইয়ে রাখা ইরান দলটিও এখন তাকিয়ে আছে পরবর্তী ম্যাচগুলোর দিকে।

0%
0%
0%
0%