বিশ্বের চিপ নকশা শিল্পে বাংলাদেশের সম্ভাবনা রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা ১ বিলিয়ন ডলার

অ্যাপল, ইনটেল এবং স্যামসাংয়ের মতো বিশ্বখ্যাত প্রযুক্তি জায়ান্টদের অত্যাধুনিক পণ্যের চিপ ও যন্ত্রাংশের নকশা প্রণয়নে এখন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন বাংলাদেশি প্রকৌশলীরা। রাজধানী ঢাকায় আয়োজিত দুই দিনব্যাপী ‘ন্যাশনাল সেমিকন্ডাক্টর সিম্পোজিয়াম অ্যান্ড বিইএআর সামিট ২০২৬’-এ উঠে এসেছে যে, দেশীয় প্রকৌশলীদের মেধা ও দক্ষতার ওপর ভরসা করে যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি, মালয়েশিয়া ও ভারতের বাজারে নিজেদের শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করেছে দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলো। বর্তমানে এই খাত থেকে রপ্তানি আয় ১০ মিলিয়ন ডলার হলেও, ২০৩০ সালের মধ্যে তা ১ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার উচ্চাভিলাষী লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
সেমিকন্ডাক্টর ইন্ডাস্ট্রি অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সচিব হাশিম আহমেদ জানান, বর্তমানে তাদের ২২টি সদস্য প্রতিষ্ঠানে প্রায় ১ হাজার ২০০ প্রকৌশলী কর্মরত রয়েছেন। আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে এই জনশক্তিকে ১০ হাজারে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে খাতের উদ্যোক্তাদের। তবে এই প্রবৃদ্ধিকে টেকসই করতে এবং বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে তারা একটি সহজতর বিনিয়োগ পরিবেশ ও কার্যকর নীতিসহায়তার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন।
বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় সেমিকন্ডাক্টর ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানি লিমিটেডের অন্যতম নকশা অংশীদার উল্কাসেমি বর্তমানে ৬০০ প্রকৌশলী নিয়ে দেশের বৃহত্তম প্রতিষ্ঠান হিসেবে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। প্রতিষ্ঠানটির মিডিয়া পরামর্শক আবদুল্লাহ আল মাসুদ জানান, বিদেশি অনেক বিনিয়োগকারী এই খাতে অর্থায়ন করতে আগ্রহী হলেও আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও প্রক্রিয়াগত সীমাবদ্ধতার কারণে তারা বাধার সম্মুখীন হচ্ছেন। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পাওয়া গেলে এই খাত দেশের অর্থনীতির জন্য বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের একটি প্রধান চালিকাশক্তি হয়ে উঠতে পারে।
প্রযুক্তি খাতের অন্যান্য প্রতিষ্ঠান যেমন প্রাইম সিলিকন ও নিউরাল সেমিকন্ডাক্টরও বিশ্ববাজারে নিজেদের সক্ষমতার প্রমাণ দিচ্ছে। প্রাইম সিলিকন ইনটেল ও স্যামসাংয়ের মতো জায়ান্টদের জন্য চিপ নকশা তৈরির কাজ করছে, অন্যদিকে নিউরাল সেমিকন্ডাক্টর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তিনির্ভর চিপ তৈরি করছে যা বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী। যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ব্যাপক চাহিদাসম্পন্ন এসব পণ্যের নকশা তৈরিতে নিয়োজিত প্রকৌশলীরা মনে করছেন, সঠিক দিকনির্দেশনা পেলে বাংলাদেশ এই বৈশ্বিক সাপ্লাই চেইনের একটি অপরিহার্য অংশ হয়ে উঠতে সক্ষম।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং সিলিকন রিভার বাংলাদেশের সহযোগিতায় আয়োজিত এই সম্মেলনে ৩৫টি প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করে, যেখানে সেমিকন্ডাক্টর প্রযুক্তির পাশাপাশি বাংলাদেশ ওশানোগ্রাফিক রিসার্চ ইনস্টিটিউটের বাণিজ্যিক শৈবাল চাষ পদ্ধতি এবং বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী প্রকল্পগুলো প্রদর্শিত হয়। তথ্যপ্রযুক্তি খাতের এই অগ্রগতি নির্দেশ করছে যে, উচ্চতর প্রযুক্তিনির্ভর সেবা রপ্তানিতে বাংলাদেশ এখন একটি সম্ভাবনাময় গন্তব্য হিসেবে বিশ্বমঞ্চে আবির্ভূত হচ্ছে।