AdvertisementAdvertisement

কাঁঠালের বীজ থেকে পুষ্টিকর খাদ্য উপাদান তৈরির প্রযুক্তি উদ্ভাবন করলেন গাকৃবি গবেষকরা

গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (গাকৃবি) গবেষকরা কাঁঠালের বীজ থেকে মানবদেহের জন্য প্রয়োজনীয় খনিজ ও পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ খাদ্য উপাদান তৈরির এক যুগান্তকারী প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছেন। দীর্ঘকাল ধরে কৃষিজ বর্জ্য হিসেবে বিবেচিত কাঁঠালের বীজকে মূল্যবান সম্পদে রূপান্তরের এই উদ্ভাবনের জন্য ইতিমধ্যে বাংলাদেশ সরকারের পেটেন্ট অর্জন করেছে বিশ্ববিদ্যালয়টি।

গাকৃবির খাদ্য প্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. এমদাদুল হক এবং গবেষক আকরাম হোসেন দীর্ঘ তিন বছরের সম্মিলিত গবেষণার মাধ্যমে এই প্রযুক্তি উদ্ভাবনে সক্ষম হয়েছেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ‘গ্রান্টস ফর অ্যাডভান্সড রিসার্চ অ্যান্ড এডুকেশন’ প্রকল্পের অর্থায়নে পরিচালিত এই গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে যে, সাধারণ শুকনো কাঁঠালের বীজের তুলনায় নতুন প্রযুক্তিতে তৈরি উপাদানে ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, আয়রন ও জিংকের মতো খনিজ উপাদানের ঘনত্ব প্রায় ১৬ থেকে ১৭ গুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা সম্ভব।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, নাম পরিবর্তনের পর গাকৃবির এটি প্রথম পেটেন্টপ্রাপ্ত উদ্ভাবন, যার মাধ্যমে বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির মোট উদ্ভাবিত প্রযুক্তির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২১টিতে। এর আগে উচ্চফলনশীল জাতের ফসলসহ ৯৭টি উদ্ভাবন নিয়ে কৃষি গবেষণার ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়টি অনন্য নজির স্থাপন করেছে।

গাকৃবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. জিকেএম মোস্তাফিজুর রহমান এই সাফল্যকে দেশের কৃষি ও পুষ্টি গবেষণার একটি মাইলফলক হিসেবে অভিহিত করেছেন। তার মতে, কৃষিজ বর্জ্যকে সম্পদে রূপান্তরের এই প্রক্রিয়া খাদ্য অপচয় রোধ, পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং পরিবেশ সংরক্ষণে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

প্রযুক্তিটির বাণিজ্যিক ব্যবহারের সম্ভাবনা নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে অধ্যাপক ড. এমদাদুল হক জানান, এটি বাস্তবায়িত হলে কাঁঠালভিত্তিক নতুন পুষ্টিকর খাদ্যপণ্য উৎপাদন সম্ভব হবে। পাশাপাশি কৃষকের আয় বৃদ্ধি ও কৃষিজ সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করার মাধ্যমে দেশের কৃষিভিত্তিক শিল্পের প্রসারে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।

0%
0%
0%
0%