চাটমোহরে ৪৯ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শতাধিক শিক্ষককে শোকজ

পাবনার চাটমোহর উপজেলার ৪৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শতাধিক প্রধান ও সহকারী শিক্ষককে কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করেছে উপজেলা শিক্ষা অফিস। শিক্ষার্থীদের মৌলিক স্বাক্ষরতা ও সংখ্যাজ্ঞান কর্মসূচি বাস্তবায়নে ব্যর্থতার অভিযোগ এনে এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহা. আব্দুল গনি বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
কর্মসূচির আওতায় গত ৩০ জুনের মধ্যে তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বাংলা রিডিং, চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের গণিতের চারটি মৌলিক নিয়ম এবং পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের ইংরেজি রিডিং নিশ্চিত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু দীর্ঘ ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা শেষেও সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়গুলোতে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জিত না হওয়ায় দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করতে এ নোটিশ জারি করা হয়েছে।
শিক্ষা অফিসের স্মারক অনুযায়ী, একাধিক নির্দেশনা ও তদারকির পরও শিক্ষকবৃন্দ কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণে ব্যর্থ হয়েছেন বলে প্রতীয়মান হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে কেন বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না, তা আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে লিখিতভাবে ব্যাখ্যা করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শালিখা, দোলং, রামনগর, ভাদ্রা, ধরইল ও হরিপুর চরইকোলসহ মোট ৪৯টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা এই নোটিশের আওতায় পড়েছেন।
শোকজপ্রাপ্ত কয়েকজন শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, বিদ্যালয়ে শিক্ষকসংকট, শিক্ষার্থীদের অনিয়মিত উপস্থিতি, অভিভাবকদের উদাসীনতা এবং অতিরিক্ত প্রশাসনিক কাজের চাপে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা দুরূহ ছিল। এছাড়া প্রত্যন্ত অঞ্চলে যাতায়াত সমস্যার কারণেও শিখন কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটেছে বলে তারা দাবি করেন। এসব প্রতিকূল পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়েই তারা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে লিখিত জবাব দাখিল করবেন।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহা. আব্দুল গনি জানান, শিক্ষার্থীদের মৌলিক শিখন দক্ষতা নিশ্চিত করতে সরকার এই কর্মসূচিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। তাই নির্ধারিত সময়ে লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ব্যর্থতার দায় এড়ানোর সুযোগ নেই। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, শোকজ নোটিশের জবাব সন্তোষজনক না হলে নিয়ম অনুযায়ী পরবর্তী প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
