AdvertisementAdvertisement

লন্ডনে প্যালেস্টাইন অ্যাকশনের সমর্থনে বিক্ষোভ, বহু আন্দোলনকারী গ্রেপ্তার

যুক্তরাজ্যের লন্ডনে ওয়েস্টমিনিস্টার ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের সামনে ফিলিস্তিনপন্থী একটি সংগঠনের সমর্থনে আয়োজিত বিক্ষোভে পুলিশ কয়েক ডজন আন্দোলনকারীকে গ্রেপ্তার করেছে। ‘প্যালেস্টাইন অ্যাকশন’ নামক সংগঠনটিকে যুক্তরাজ্য সরকার ‘সন্ত্রাসী’ গোষ্ঠী হিসেবে নিষিদ্ধ করার পর, এর সমর্থনে অনুষ্ঠিত এটিই প্রথম বড় ধরনের বিক্ষোভ। মূলত ‘ডিফেন্ড আওয়ার জুরিস’ নামের একটি কর্মী গোষ্ঠীর আহবানে এই বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হয়, যারা ফিলিস্তিনপন্থী কর্মীদের বিচারের মুখোমুখি করার সরকারি সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে সমবেত হয়েছিল।

লন্ডনের মেট্রোপলিটন পুলিশ এক বার্তায় জানিয়েছে, সন্ত্রাসবাদ আইন অনুযায়ী নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের প্রতি সমর্থন প্রকাশ করায় আন্দোলনকারীদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবিতে দেখা যায়, কেন্দ্রীয় লন্ডনের আদালত প্রাঙ্গণে শত শত মানুষ ফিলিস্তিনের পতাকা হাতে জড়ো হয়েছেন এবং গাজা ও অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বাহিনীর দমনপীড়নের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছেন। বিক্ষোভকারীরা দাবি করছেন, ফিলিস্তিনের পক্ষে সংহতি প্রকাশ করা কোনোভাবেই সন্ত্রাসবাদ হতে পারে না।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

অ্যান্ডি বার্নহ্যাম যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর এই প্রথম এ ধরনের কোনো বিক্ষোভের ঘটনা ঘটল। এর আগে লেবার পার্টির নেতৃত্বাধীন কিয়ার স্টারমারের সরকারের বিরুদ্ধে গাজায় ইসরায়েলি আগ্রাসনের বিষয়ে নীরব থাকার এবং ফিলিস্তিন ইস্যুতে দ্বিমুখী আচরণের অভিযোগ ছিল। বার্নহ্যাম দায়িত্ব নেওয়ার পর নিজের পররাষ্ট্রনীতি পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি দিলেও, অধিকারকর্মীরা বলছেন যে কার্যকর পদক্ষেপ ছাড়া তার ক্ষমা প্রার্থনা লোক দেখানো মাত্র।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

এদিকে গ্রিন পার্টির নেতা জ্যাক পোলানস্কি প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, ফিলিস্তিনপন্থী সংগঠনের ওপর থেকে এই নিষেধাজ্ঞা অবিলম্বে প্রত্যাহার করা উচিত। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে প্রতিবাদী কণ্ঠস্বরকে দমনের এই প্রক্রিয়াকে তিনি ‘ডিস্টোপিয়ান’ বা দুঃস্বপ্নতুল্য বলে অভিহিত করেছেন। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর দাবি, সরকারি নীতিমালার কারণেই পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা বাড়ছে এবং সরকার উল্টো ফিলিস্তিনের সমর্থক সাধারণ নাগরিকদের দীর্ঘমেয়াদী কারাদণ্ডের ভয় দেখাচ্ছে।

‘ডিফেন্ড আওয়ার জুরিস’ গোষ্ঠীর পক্ষ থেকে দেওয়া তথ্যমতে, এক বৃদ্ধা হুইলচেয়ারে বসে কেবল সংগঠনের সমর্থন করায় এখন তাকে ১৪ বছরের কারাদণ্ডের ঝুঁকিতে পড়তে হচ্ছে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, যুক্তরাজ্য সরকার নাগরিক অধিকার সংকুচিত করে ফিলিস্তিনিদের ওপর চালানো ইসরায়েলি কর্মকাণ্ডের দায় থেকে বাঁচানোর চেষ্টা করছে। বার্নহ্যাম প্রশাসন ইতিমধ্যে সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দিয়ে সংঘাতের নতুন মেরুকরণে জড়িয়ে পড়েছে, যা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র অসন্তোষ বিরাজ করছে।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

0%
0%
0%
0%