AdvertisementAdvertisement

রাহুল গান্ধীর ভাষণে অনুপস্থিতি প্রকাশ্যে আনল পাঞ্জাব কংগ্রেসের অন্তর্দ্বন্দ্ব

ভারতের লোকসভায় বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্যের সময় পাঞ্জাবের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা জলন্ধরের কংগ্রেস সাংসদ চরণজিৎ সিং চান্নির অনুপস্থিতি রাজ্য রাজনীতিতে ব্যাপক শোরগোল ফেলে দিয়েছে। দলের নির্দেশ অমান্য করে লোকসভার অধিবেশন এড়িয়ে ফরিদকোটে পৃথক রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ায় পাঞ্জাব কংগ্রেসের অভ্যন্তরে দীর্ঘদিনের অন্তর্দ্বন্দ্ব আবারও প্রকাশ্যে চলে এসেছে।

এনডিটিভি-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, লোকসভায় বিরোধী দলনেতার বক্তব্য চলাকালীন দলের সকল সাংসদকে বাধ্যতামূলকভাবে উপস্থিত থাকার নির্দেশ দিয়েছিলেন পাঞ্জাব কংগ্রেসের সংসদীয় দলের প্রধান গুরজিৎ সিং অওজলা। নির্দেশ উপেক্ষা করে চান্নি ফরিদকোটে বাবা ফরিদ বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে নিয়োগ পরীক্ষায় জালিয়াতির অভিযোগে আয়োজিত বিক্ষোভে নেতৃত্ব দেন। এই কর্মসূচিতে তার অনুগামী নেতা ও কর্মীদের বিপুল উপস্থিতি ছিল তার নেতৃত্বের শক্তির এক বিশেষ প্রদর্শন।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

একই ইস্যুতে বুধবার দিল্লিতে আম আদমি পার্টির সরকারের বিরুদ্ধে পাঞ্জাব কংগ্রেস সাংসদদের নিয়ে পৃথক বিক্ষোভের ডাক দিয়েছিলেন রাজ্য কংগ্রেস সভাপতি অমরিন্দর সিং রাজা ওয়ারিং। তবে কেন্দ্রীয়ভাবে দলের পক্ষ থেকে সমন্বয়ের চেষ্টা চালানো হলেও, চান্নি ও ওয়ারিংয়ের পৃথক বিক্ষোভ কর্মসূচি দুই নেতার মধ্যকার গভীর দূরত্বের প্রমাণ দেয়। আসন্ন নির্বাচনের লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার নির্বাচনী কৌশলবিদ নরেশ অরোরার উদ্যোগে তাদের মধ্যে একটি গোপন বৈঠকের আয়োজন করা হলেও তাতে বরফ গলেনি।

পাঞ্জাব কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্বের এই দ্বন্দ্ব নিরসনে দলের হাইকমান্ড একাধিকবার তৎপর হয়েছে। গত জুলাই মাসে ওয়ারিংকে রাজ্য সভাপতি পদে বহাল রাখা এবং চান্নিকে নির্বাচনী প্রচার কমিটির দায়িত্ব দেওয়ার পর থেকেই ক্ষোভ দানা বাঁধে। চণ্ডীগড়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা ভূপেশ বাঘেল এবং দিল্লিতে সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক কেসি বেণুগোপালের কঠোর হুশিয়ারির পরও পরিস্থিতির তেমন কোনো উন্নতি হয়নি।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন যৌথ বৈঠকে চান্নি ও ওয়ারিংয়ের সহাবস্থান ছিল নিছকই লোক দেখানো। কার্যত তাদের মধ্যে যোগাযোগ প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে, যার প্রভাব পড়ছে দলের সাংগঠনিক কর্মসূচিতেও। উদ্ভূত পরিস্থিতি সামাল দিতে ভূপেশ বাঘেল পুনরায় পাঞ্জাব সফরে বেরাচ্ছেন, যেখানে তিনি স্থানীয় নেতাদের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে বৈঠক করে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার শেষ চেষ্টা করবেন।

তথ্যসূত্র: হিন্দুস্থান টাইমস

0%
0%
0%
0%