দিল্লির বিক্ষোভে মামলা প্রত্যাহার পুলিশের, অমিত শাহের পদত্যাগের দাবিতে সরব সিজেপি নেতৃত্ব

গত ২০ জুলাই দিল্লির যন্তর মন্তরে সিজেপির আন্দোলনের জেরে সৃষ্ট উত্তেজনার ঘটনায় দায়েরকৃত একাধিক মামলা থেকে ১৩টি এফআইআর প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছে দিল্লি পুলিশ। তবে সেইদিনের বিশৃঙ্খলার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে চলমান তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
ভারতের স্বরাষ্ট্র দপ্তরের এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানানো হয়, দিল্লির জাতীয় রাজধানী অঞ্চলজুড়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে যেন বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারী সাধারণ মানুষের বিরুদ্ধে কোনো প্রতিকূল আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হয়। সরকারের পক্ষ থেকে আরও নিশ্চিত করা হয়েছে যে, আন্দোলনের ঘটনায় যারা ইতিমধ্যে গ্রেপ্তার বা আটকের শিকার হয়েছেন, তাদের বিষয়টি দ্রুত পর্যালোচনা করে যোগ্য ব্যক্তিদের মুক্তি দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে।
এদিকে, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের পদত্যাগ দাবি করে উত্তাপ ছড়িয়েছেন সিজেপি নেতা অভিজিৎ দিপকে। মহারাষ্ট্রের সাম্ভাজিনগরের এক জনসভায় দিপকে অভিযোগ করেন যে, শিক্ষার্থীদের ওপর যেভাবে চড়াও হয়েছে পুলিশ এবং প্রতিবাদকারীদের রক্ত ঝরেছে, তা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সরাসরি নির্দেশ ছাড়া সম্ভব নয়। এর আগে লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীও সংসদ অভিযানের সময় শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের বলপ্রয়োগের পেছনে অমিত শাহের যোগসাজশের অভিযোগ তুলেছিলেন।
সিজেপির বিরুদ্ধে ওঠা বিদেশি তহবিল সংগ্রহের অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে দিপকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছেন। তিনি বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব অমিত শাহের হাতে থাকার পরেও যদি কোনো বিদেশি অর্থ আসার সুযোগ থাকে, তবে তা মন্ত্রীর চরম ব্যর্থতা। এ সময় তিনি कटाक्ष করে বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিজেকে চাণক্য দাবি করলেও এ ধরনের ব্যর্থতার দায় নিয়ে তার অবিলম্বে ইস্তফা দেওয়া উচিত।
অভিজিৎ দিপকে আরও বিস্ফোরক দাবি করে বলেন, বিক্ষোভকারীদের ওপর বলপ্রয়োগের যৌক্তিকতা প্রমাণের উদ্দেশ্যে দিল্লি পুলিশ পরিকল্পিতভাবে পাথর ছোড়ার ঘটনা সাজিয়েছিল। তার ভাষ্যমতে, ২০ জুলাই পুলিশ কৌশলে যন্তর মন্তরের বিক্ষোভস্থলে একটি ট্রাক ভর্তি পাথর ও একটি ক্ষতিগ্রস্ত গাড়ি নিয়ে আসে, যাতে আন্দোলনের ঘটনাকে সহিংস হিসেবে চিহ্নিত করে কঠোর দমন-পীড়নের একটি সুযোগ তৈরি করা যায়।
তথ্যসূত্র: হিন্দুস্থান টাইমস
