লর্ডসে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক টেস্ট সফরসহ অ্যাশেজে জমজমাট ইংল্যান্ড গ্রীষ্মের সূচি ঘোষণা

ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড আগামী ২০২৬-২৭ মৌসুমের গ্রীষ্মকালীন ক্রিকেট সূচি ঘোষণা করেছে। আগামী ১৫ মে পাকিস্তানের বিপক্ষে পাঁচ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ দিয়ে শুরু হবে ইংলিশদের এই ক্রিকেটীয় মৌসুম। এরপর ২৮ মে লর্ডসে বাংলাদেশের বিপক্ষে একটি একমাত্র টেস্ট ম্যাচ খেলতে নামবে স্বাগতিক ইংল্যান্ড।
ক্রিকেট বিশ্বের মর্যাদাপূর্ণ দ্বৈরথ ‘অ্যাশেজ’ সিরিজকে কেন্দ্র করে সাজানো হয়েছে এবারের সূচি। জুন ও জুলাই মাস জুড়ে পুরুষ ও নারী উভয় দলের অ্যাশেজ সিরিজ অনুষ্ঠিত হবে। ১৮ জুন নটিংহ্যামে শুরু হবে পুরুষদের অ্যাশেজ। সিরিজের পরবর্তী টেস্টগুলো অনুষ্ঠিত হবে লর্ডস, এজবাস্টন এবং সাউদাম্পটনের ইউটিলিটা বোলে। ইউটিলিটা বোলে প্রথমবারের মতো কোনো অ্যাশেজ টেস্ট অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। সবশেষে ২৯ জুলাই ওভালে সিরিজের পঞ্চম ও শেষ টেস্ট দিয়ে পর্দা নামবে অ্যাশেজের।
অন্যদিকে, নারীদের অ্যাশেজ শুরু হবে ২৪ জুন হেডিংলিতে একমাত্র টেস্টের মাধ্যমে। ২০০১ সালের পর এই প্রথম হেডিংলি কোনো টেস্ট ম্যাচ আয়োজন করতে যাচ্ছে। টেস্ট সিরিজ শেষে জুলাই মাসে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি ও তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ খেলবে দুই দল। পাশাপাশি ইংল্যান্ডের পুরুষদের মিশ্র প্রতিবন্ধী ক্রিকেট দলও এই গ্রীষ্মে অস্ট্রেলিয়ার মুখোমুখি হবে।
বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনাল আয়োজনের দায়িত্বও পেয়েছে ওভাল। আগামী ৯ থেকে ১৩ জুন এই ফাইনাল ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে। এটি হবে ওভালের দ্বিতীয়বারের মতো এই আসরের ফাইনাল আয়োজন। আইসিসি মহাব্যবস্থাপক গৌরব সাক্সেনা জানিয়েছেন, টেস্ট ক্রিকেটের ১৫০ বছর পূর্তিতে এই ফাইনালটি বাড়তি গুরুত্ব বহন করবে।
২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপকে সামনে রেখে নিজেদের প্রস্তুত করতে ব্যস্ত সময় পার করবে ইংল্যান্ডের পুরুষ হোয়াইট বলের দল। গ্রীষ্মের পুরো সময়জুড়ে তারা মোট ১০টি ওয়ানডে খেলবে। সেপ্টেম্বরে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি ও পাঁচ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ দিয়ে তাদের গ্রীষ্মকালীন মৌসুমের সমাপ্তি ঘটবে। একই সময়ে বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল ইংল্যান্ড সফর করবে এবং স্বাগতিকদের বিপক্ষে সমান তিনটি করে টি-টোয়েন্টি ও ওয়ানডে ম্যাচ খেলবে।
ইসিবি প্রধান নির্বাহী রিচার্ড গোল্ড জানিয়েছেন, ঘরের মাঠে অস্ট্রেলিয়া, পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে এই সূচি ক্রিকেট প্রেমীদের জন্য দারুণ এক অভিজ্ঞতা হতে যাচ্ছে। বিশেষ করে ২০১০ সালের পর বাংলাদেশের বিপক্ষে ইংল্যান্ডের মাটিতে টেস্ট ম্যাচ আয়োজন এবং নারী ও পুরুষ উভয় দলের জন্য সমান গুরুত্ব দিয়ে সূচি সাজানোয় গর্বিত ইসিবি। এছাড়াও অস্ট্রেলিয়া দলের প্রস্তুতির জন্য ইংল্যান্ড লায়ন্সের বিপক্ষে ৭ থেকে ১০ জুন এমিরেটস ওল্ড ট্রাফোর্ডে একটি প্রস্তুতি ম্যাচ রাখা হয়েছে, যদি অস্ট্রেলিয়া দল বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে খেলার যোগ্যতা অর্জন না করে।