সব শিপ রিসাইক্লিং ইয়ার্ডকে গ্রিন সার্টিফিকেশনের আওতায় আনার ঘোষণা বাণিজ্যমন্ত্রীর

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে অবস্থিত পিএইচপি শিপ ব্রেকিং অ্যান্ড রিসাইক্লিং ইয়ার্ড পরিদর্শনের সময় বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবুল মুক্তাদির জানিয়েছেন, বর্তমানে বাংলাদেশে সম্পূর্ণ বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে জাহাজ ভাঙার কাজ পরিচালিত হচ্ছে। আন্তর্জাতিক কমপ্লায়েন্স ও পরিবেশগত মানদণ্ড কঠোরভাবে অনুসরণ করায় দেশীয় শিপ রিসাইক্লিং শিল্প এখন নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। সরকারের লক্ষ্য হলো পর্যায়ক্রমে দেশের প্রতিটি শিপ রিসাইক্লিং ইয়ার্ডকে গ্রিন সার্টিফিকেশনের আওতায় আনা, যাতে বৈশ্বিক বাজারে বাংলাদেশের গ্রহণযোগ্যতা ও মর্যাদা আরও বৃদ্ধি পায়।

বিজ্ঞাপন

মন্ত্রী উল্লেখ করেন, একসময় পরিবেশদূষণ, শ্রমিকদের নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং অস্বাস্থ্যকর কর্মপরিবেশের কারণে এই শিল্প আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছিল। তবে গত কয়েক বছরে আধুনিক প্রযুক্তি ও উন্নত নিরাপত্তা ব্যবস্থা প্রবর্তনের মাধ্যমে খাতের আমূল পরিবর্তন সাধিত হয়েছে। এরই ফলস্বরূপ দেশের বেশ কয়েকটি রিসাইক্লিং ইয়ার্ড ইতিমধ্যে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জনে সক্ষম হয়েছে, যা দেশের জন্য গর্বের বিষয়।

একসময় বিশ্বের শিপ রিসাইক্লিং বাজারের প্রায় ৪৫ শতাংশ জাহাজ বাংলাদেশে ভাঙা হতো এবং বৈশ্বিক বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল শীর্ষে। তবে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা ও বিভিন্ন নীতিগত চ্যালেঞ্জের মুখে সেই অবস্থান কিছুটা নড়বড়ে হলেও সরকার পুনরায় শীর্ষস্থান পুনরুদ্ধারে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। শিল্পটিকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে বর্তমান পরিকল্পনা অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে বলে মন্ত্রী জানান।

আন্তর্জাতিক শিপ রিসাইক্লিংয়ের দুই গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি—হংকং কনভেনশন ও বাসেল কনভেনশন—নিয়ে সরকারের নীতিগত অবস্থান পর্যালোচনা করা হচ্ছে বলেও খন্দকার আবুল মুক্তাদির নিশ্চিত করেন। জাতীয় স্বার্থ রক্ষা ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রেখেই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। ইয়ার্ড পরিদর্শন শেষে মন্ত্রী বাংলাদেশ শিপ ব্রেকার্স অ্যান্ড রিসাইক্লার্স অ্যাসোসিয়েশনের নেতাদের সাথে বৈঠকে মিলিত হয়ে শিল্পের বিভিন্ন সম্ভাবনা ও সংকট নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।

বিজ্ঞাপন

উক্ত পরিদর্শনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ শিপ রিসাইক্লিং বোর্ডের মহাপরিচালক এ কে এম শফিউল আলম তালুকদার, বাংলাদেশ শিপ ব্রেকার্স অ্যান্ড রিসাইক্লার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোহাম্মদ মহসিন চৌধুরী এবং সহসভাপতি নুর উদ্দিন রুবেলসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি ও শিল্পখাতের ঊর্ধ্বতন প্রতিনিধিরা।

0%
0%
0%
0%