ঘুষ নিয়ে মাদক মামলার আসামিকে বিদেশ যাওয়ার সুযোগ করে দেওয়ার অভিযোগ ডিএনসি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে

রংপুরে ঘুস নিয়ে মাদক মামলার চার্জশিট থেকে নাম বাদ দিয়ে ও আসামি হিসেবে অব্যাহতি দেখিয়ে এক শীর্ষ মাদক কারবারিকে বিদেশে পালানোর সুযোগ করে দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) রংপুর বিভাগীয় গোয়েন্দা কার্যালয়ের দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত কর্মকর্তারা হলেন ওই কার্যালয়ের উপপরিচালক দিলারা রহমান এবং উপপরিদর্শক মেহেদুল ইসলাম সরদার। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ও স্থানীয় এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে মঙ্গলবার বিভাগীয় কমিশনার ও রেঞ্জ ডিআইজিসহ সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তরে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

লিখিত অভিযোগে জানানো হয়, রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার বালুচর কাশিনাথপুর এলাকার হাতিমপুর গ্রামের আব্দুল লতিফের ছেলে মাদক সম্রাট মোরছালিন মিয়ার (৩২) কাছ থেকে মোটা অঙ্কের ঘুস নেন উপপরিচালক দিলারা রহমান ও উপপরিদর্শক মেহেদুল ইসলাম সরদার। মাদকের কারবার করে এলাকায় সুবিশাল বাড়ি, কয়েক কোটি টাকার সম্পত্তির পাশাপাশি ঢাকায় বেশ কয়েকটি ফ্ল্যাট কিনেছেন মোরছালিন। গত বছরের ৮ জুলাই ডিএনসির রংপুর বিভাগীয় গোয়েন্দা কার্যালয়ের পরিদর্শক মোজাফফর হোসেন শাহের নেতৃত্বে মিঠাপুকুরের রাণীপুকুর জুমা খানপাড়া এলাকার মো. খালেদ খানের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ৯ হাজার ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। ওই সময় খালেদের স্ত্রী নাজমা বেগমকে গ্রেপ্তার করা হলেও কৌশলে পালিয়ে যান খালেদ খান ও মোরছালিন। এ ঘটনায় ডিএনসির উপপরিদর্শক আলমগীর হোসেন বাদী হয়ে মিঠাপুকুর থানায় এজাহার দায়ের করেন।

কিন্তু মামলার তদন্তে দেখা যায়, এজাহারে মোরছালিনকে কক্সবাজার থেকে ইয়াবা এনে মজুতকারী হিসেবে উল্লেখ করা হলেও আদালতে দাখিল করা চার্জশিটে তাকে মাদক বিক্রিতে সহযোগিতাকারী হিসেবে দেখানো হয়। এছাড়া চার্জশিটের ৩ নম্বর কলামে দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তিদের নামের জায়গায় আসামিদের নাম না দিয়ে ২ নম্বর কলামে অব্যাহতি দেওয়ার কলামে নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এমনকি মোরছালিনের জীবিত পিতা আব্দুল লতিফকে চার্জশিটে মৃত দেখানো হয়। কয়েক লাখ টাকার বিনিময়ে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মেহেদুল ও উপপরিচালক দিলারার যোগসাজশে এই জালিয়াতি করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে পুলিশ পিসিপিআরে মাদক মামলায় আসামিকে অব্যাহতি দেখিয়ে বিদেশ পালানোর সুযোগ করে দেওয়া হয়।

গোয়েন্দা সূত্রে জানা যায়, গত ২১ আগস্ট দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটে সানজিলা মুনতাসির ট্রাভেলস অ্যান্ড ট্যুর লিমিটেডের সহযোগিতায় ইউএস বাংলার ফ্লাইটে ওমরাহ ভিসায় সৌদি আরব গেছেন মোরছালিন। গত ৬ সেপ্টেম্বর তার আদালতে হাজিরা দেওয়ার তারিখ থাকলেও তিনি উপস্থিত হননি। আদালতের সংশ্লিষ্ট শাখা থেকে জানা যায়, তিনি মক্কায় ওমরাহ পালনের জন্য গেছেন মর্মে সময়ের আবেদন করা হয়েছে। অথচ গত ৯ আগস্ট স্ত্রী আনোয়ারা বেগম ও ছোট বোন মনোশি গ্রামের নামে অর্ধকোটি টাকার জমি কেনাসহ মিঠাপুকুর বাজার এলাকায় প্রায় অর্ধকোটি টাকার জমি বায়না করেছেন এই মাদক কারবারি। বর্তমানে তিনি সৌদি আরবে পৌঁছে স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য বিভিন্ন তদবির চালিয়ে যাচ্ছেন।

অভিযোগের বিষয়ে উপপরিদর্শক মেহেদুল ইসলাম সরদার বলেন, আমরা চার্জশিট দাখিল পর্যন্ত কাজ করি, এরপর আসামি কোথায় থাকে তা আমাদের জানা থাকে না। এর আগে সিরাজগঞ্জেও এভাবেই চার্জশিট দিয়েছি এবং কোনো সমস্যা হয়নি। তদন্তে যা পেয়েছি তা-ই দিয়েছি। তবে তিনি ঘুস নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

অন্যদিকে ডিএনসির রংপুর বিভাগীয় গোয়েন্দা কার্যালয়ের উপপরিচালক দিলারা রহমান বলেন, যে অভিযোগগুলো উঠেছে তা নিয়ে তদন্তকারী কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলব। মামলার চার্জশিট দেওয়া হয়েছে এবং আদালত এ বিষয়ে অবজারভেশন দিলে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। তবে তিনি কোনো অপরাধের সঙ্গে জড়িত নন বলে দাবি করেন এবং ঘুস নেওয়ার প্রশ্নই আসে না বলে জানান। সরকারি চাকরি বিধিমালা লঙ্ঘনের দায়ে অভিযুক্ত এই দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দ্রুত কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী ও এলাকাবাসী।

০%
০%
০%
০%