কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলায় মেয়ে ও ১২ বছরের নাতিকে পরিকল্পিতভাবে গুম করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারীর বাবা ফুল মিয়া বাদী হয়ে রৌমারী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযুক্ত জামাই মমিনুল ইসলাম ঘটনার পর থেকেই পলাতক রয়েছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১৬ বছর আগে উপজেলার পূর্ব ইছাকুড়ি গ্রামের ফুল মিয়ার মেয়ে ফুলতি খাতুনের সঙ্গে একই এলাকার মৃত আইজল মিয়ার ছেলে মমিনুল ইসলামের বিয়ে হয়। তাদের সংসারে ১২ বছরের একটি ছেলে সন্তান রয়েছে। বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের দাবিতে ফুলতিকে নিয়মিত শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন মমিনুল। মেয়ের সুখের কথা চিন্তা করে ফুল মিয়া দফায় দফায় জামাইকে পাঁচ লাখ টাকার বেশি প্রদান করেন, তবুও দাম্পত্য কলহের অবসান হয়নি।
এ বিষয়ে একাধিকবার সালিশ ও পারিবারিক বৈঠক হলেও কোনো সমাধান হয়নি। গত প্রায় দেড় মাস আগে রৌমারী সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুর রাজ্জাক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে নির্যাতন না করার শর্তে স্ট্যাম্পে লিখিত অঙ্গীকারনামা তৈরি করা হয়। এরপর দম্পতি আশুলিয়া এলাকায় একটি পোশাক কারখানায় চাকরি নেন, কিন্তু নির্যাতন বন্ধ হয়নি।
গত ১২ সেপ্টেম্বর রাত নয়টার দিকে আশুলিয়ার জিরানী বাজারের পুকুরপাড় এলাকার আবুল কালামের কলোনি থেকে মমিনুল মুঠোফোনে ফুল মিয়াকে জানান যে, ফুলতি ও তাদের ১২ বছরের ছেলে ফরিদ বাসা থেকে পালিয়ে গেছে। খবর পেয়ে আত্মীয়স্বজন বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তাদের কোনো সন্ধান পাননি। পরবর্তীতে মেয়ের খোঁজে শ্বশুরবাড়ির লোকজনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা উল্টো হুমকি দেন এবং ফুলতি ও ফরিদকে বাবার বাড়িতে লুকিয়ে রাখা হয়েছে বলে মিথ্যা অভিযোগ তোলেন।
ফুল মিয়া জানান, তার মেয়েকে পরিকল্পিতভাবে নিখোঁজ বা গুম করে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। এখন মেয়ের সন্ধান চাইলে তাদের মারধরের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। তার মেয়ে বেঁচে আছেন নাকি তাকে হত্যা করা হয়েছে, তা নিয়ে পরিবার চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে।
ঘটনার বিষয়ে রৌমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাওছার আলী জানান, এ ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে এবং বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। নিখোঁজ গৃহবধূ ও তার ছেলেকে উদ্ধারের পাশাপাশি অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। অবিলম্বে এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয়রা।