পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার পাঙ্গাশিয়া ইউনিয়নের আলগী গ্রামে পায়রা নদীর ভয়াবহ ভাঙনে একটি সম্পূর্ণ গ্রাম নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙনের কবলে পড়ে ইতোমধ্যে গোরস্তান, মসজিদ, মন্দির, কৃষিজমি এবং শতাধিক বসতবাড়ি নদীগর্ভে চলে গেছে। ভাঙন পরিস্থিতি এখনও অব্যাহত থাকায় নতুন করে বসতভিটা হারানোর তীব্র শঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন পায়রা তীরবর্তী আতঙ্কিত গ্রামবাসী।
সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা যায়, দীর্ঘকাল ধরে চলা এই তীব্র ভাঙন রোধে কোনো স্থায়ী প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। ফলে প্রতিবছরই এলাকার বসতভিটা, ফসলি জমি, গাছপালা ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা নদীতে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। অনেক পরিবার বাধ্য হয়ে তাদের ঘরবাড়ি সরিয়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছেন। বর্তমানে নদীর স্রোতের তীব্রতা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় আলগী গ্রামের ওয়াপদা বেড়িবাঁধের আশপাশের প্রায় শতাধিক বসতবাড়ি মারাত্মক ঝুঁকিতে রয়েছে। ভাঙনকবলিত এলাকার মানুষের চোখেমুখে এখন কেবল সর্বনাশা নদীর আতঙ্ক বিরাজ করছে।
ভাঙনের মুখে থাকা পরিবারগুলো তাদের সম্বলটুকু রক্ষায় চরম উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। বসতভিটা হারানো পরিবারগুলোর একটি বড় অংশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের ওয়াপদা বেড়িবাঁধের পাশে ঝুপড়ি তুলে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। কেউ কেউ আশ্রয়ণ প্রকল্পে ঠাঁই পেলেও বহু পরিবার পরিজন নিয়ে অন্য গ্রাম বা শহরে চলে যেতে বাধ্য হয়েছেন। বিগত পাঁচ থেকে ছয় বছরের ব্যবধানে অন্তত দুই শতাধিক পরিবারের ভিটেমাটি, ফসলি জমি ও গাছপালা নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। সবকিছু হারিয়ে এসব মানুষ সম্পূর্ণ নিঃস্ব হয়ে পড়লেও ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় কেউ এগিয়ে আসেনি বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর।
স্থানীয় বাসিন্দা জাকির বিশ্বাস জানান, পায়রা নদীর ভাঙনে ঘরবাড়ি, বাগান, কবরস্থান, মসজিদ, মন্দির ও ফসলি জমি হারিয়ে মানুষ সবকিছু হারালেও দেখার কেউ নেই। আরেক স্থানীয় বাসিন্দা মাওলানা মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সরকার আসে সরকার যায়, আর আলগী গ্রাম শুধু পায়রায় খায়। বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়কের পায়রা সেতুর দক্ষিণ পাড় থেকে পশ্চিম দিকে প্রায় তিন কিলোমিটার পাইলিং করা হলে লেবুখালী ও আলগী গ্রাম দুটি রক্ষা করা সম্ভব বলে মনে করেন তিনি।
ভাঙনে তিনবার বসতভিটা হারানো নগেন বৈদ্যের উত্তরসূরি নিতাই বৈদ্য ও সুবাস বৈদ্য কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, রাতের আঁধারে ঘুমানোরও উপায় থাকে না, কখন জানি নদীগর্ভে সলিল সমাধি ঘটে সেই আশঙ্কায় কাটে তাদের সময়। বাড়িঘর ও কৃষিজমি সবই সর্বনাশা পায়রা নদী কেড়ে নেওয়ায় তারা এখন সরকারের কাছে মাথা গোঁজার একটি নিরাপদ ঠাঁই দাবি করছেন। বিশেষ করে মৃত্যুর পর পরিজনদের শেষ বিদায় জানানোর জন্য গোরস্তানটুকু রক্ষার আকুল আবেদন জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
পাঙ্গাশিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গাজী নজরুল ইসলাম নদীভাঙনের সত্যতা স্বীকার করে জানান, পায়রা নদীর ভাঙনে তার ইউনিয়নের আলগী গ্রামটি প্রায় নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে এবং যেটুকু অংশ অবশিষ্ট ছিল, তাও এখন ভাঙতে শুরু করেছে। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে অবশিষ্ট জনপদ রক্ষায় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ।