নওগাঁর অভ্যন্তরীণ ও কয়েকটি আন্তজেলা রুটে বাস এবং সিএনজিচালিত অটোরিকশা শ্রমিকদের মধ্যকার সংঘর্ষ ও পাল্টাপাল্টি অবস্থানের জেরে দীর্ঘ ৯ ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর অবশেষে বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বিকেল চারটার দিকে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে। প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ের হস্তক্ষেপে উভয় পক্ষের মধ্যে সমঝোতা বৈঠকের পর এই অচলাবস্থার অবসান ঘটে, যা সাধারণ যাত্রীদের দীর্ঘ ভোগান্তির অবসান ঘটিয়েছে।
দীর্ঘ ৯ ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকায় নওগাঁর বিভিন্ন রুটে যাতায়াতকারী সাধারণ যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। এই সুযোগে একশ্রেণির অসাধু ছোট যান চালক যাত্রীদের জিম্মি করে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করেছেন বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। মান্দাগামী যাত্রী আরিফ হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, প্রশাসনের সমঝোতায় গাড়ি চলাচল শুরু হলেও এই কয়েক ঘণ্টার ভোগান্তির দায় কে নেবে? সংঘর্ষ হলো এক পক্ষের সাথে, অথচ কষ্ট ভোগ করতে হলো সাধারণ যাত্রীদের। সাপাহারগামী যাত্রী তুলি কাজী ও পোরশাগামী তারিক হোসেন জানান, সামান্য ঘটনাকে কেন্দ্র করে মানুষকে এভাবে জিম্মি করা কোনোভাবেই কাম্য নয়। বিকল্প যানবাহনে যাতায়াত করতে গিয়ে তাদের অতিরিক্ত অর্থ অপচয়ের পাশাপাশি মূল্যবান সময়ও নষ্ট হয়েছে।
গত শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে নওগাঁ শহরের বালুডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ডে যাত্রী ওঠানোকে কেন্দ্র করে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালক এবং একটি বাসের চালক ও সহকারীর মধ্যে বাগবিতণ্ডার সূত্রপাত হয়। এর জের ধরে ওই দিন বেলা একটার দিকে পত্নীতলার নজিপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোচালকেরা সংঘবদ্ধ হয়ে বাসচালক রুবেল হোসেন ও তার সহকারীকে মারধর করেন। এই ঘটনার প্রতিবাদে পরদিন রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে নওগাঁ থেকে রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, জয়পুরহাট ও বগুড়া রুটে বাস চলাচল অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করে জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়ন। পাশাপাশি বাসশ্রমিকেরা সড়কে অটোরিকশা চলাচলেও বাধা দেন এবং যেসব চালক তা অমান্য করার চেষ্টা করেন তাদের ওপর হামলার অভিযোগ ওঠে। পরবর্তীতে গত সোমবার রাতে প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনার পর অভ্যন্তরীণ রুটে কিছু বাস চললেও, মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বদলগাছীতে একটি যাত্রীবাহী বাসের চালকের ওপর অটোরিকশা চালকদের হামলার অভিযোগ তুলে বুধবার সকাল থেকে পুনরায় সব রুটে বাস চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পরিবহন শ্রমিক নেতা, অটোরিকশা মালিক-চালক সমিতি এবং স্থানীয় প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ের মধ্যে দফায় দফায় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। অবশেষে বুধবার বিকেল চারটায় প্রশাসনের মধ্যস্থতায় উভয় পক্ষ একটি সমঝোতায় পৌঁছায়। নওগাঁ জেলা বাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম চৌধুরী জানান, এই আন্দোলনের সাথে মালিক সমিতির কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না, এটি সম্পূর্ণ শ্রমিকদের আন্দোলন ছিল। শ্রমিকদের লিখিত দাবিগুলো প্রশাসন মেনে নেওয়ায় তারা গাড়ি চালাতে সম্মত হয়েছেন।
নওগাঁর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. মাসুদুল হক জানান, শ্রমিকদের নির্দিষ্ট দাবি ও শর্ত সাপেক্ষে যান চলাচল পুনরায় শুরু হয়েছে। সমঝোতা অনুযায়ী, যাত্রী ওঠানামার ক্ষেত্রে বাস ও সিএনজির মধ্যে নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রাখা হবে এবং নির্দিষ্ট স্থানে তাদের স্টেশন থাকবে। সিএনজিচালিত অটোরিকশাগুলো নির্দিষ্ট সময় মেনে চলাচল করবে। প্রশাসন স্পষ্টভাবে সতর্ক করে দিয়েছে যে, ভবিষ্যতে কেউ এ ধরনের নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করলে বা আইন অমান্য করলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।