AdvertisementAdvertisement

সংকটাপন্ন চার আর্থিক প্রতিষ্ঠানে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রশাসক নিয়োগ

আর্থিক খাতে চরম অস্থিরতা ও ভঙ্গুর অবস্থার মুখে পড়া চারটি ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে অবসায়ন বা রেজোল্যুশন প্রক্রিয়ার আওতায় আনতে প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই কঠোর পদক্ষেপের অংশ হিসেবে আভিভা ফাইন্যান্স, এফএএস ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট, ফারইস্ট ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট এবং ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেসের ব্যবস্থাপনা ও নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব এখন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তাদের হাতে ন্যস্ত হলো। রবিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের এক অফিস আদেশে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের জন্য একজন অস্থায়ী প্রশাসক ও দুজন সহযোগী প্রশাসক মিলিয়ে মোট ১২ জন কর্মকর্তার নিয়োগ চূড়ান্ত করা হয়েছে।

বিগত বছরগুলোতে লাগামহীন দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার কারণে এসব প্রতিষ্ঠানে খেলাপি ঋণের হার প্রায় ১০০ শতাংশে গিয়ে ঠেকেছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এফএএস ফাইন্যান্সের খেলাপি ঋণের হার ৯৯ দশমিক ৯৯ শতাংশ, ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ের ৯৯ দশমিক ৪৪ শতাংশ, ফারইস্ট ফাইন্যান্সের ৯৮ দশমিক ৫০ শতাংশ এবং আভিভা ফাইন্যান্সের ৯৩ দশমিক ৯৩ শতাংশ। খেলাপি ঋণের এই ভয়াবহ চিত্র ও আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষার তাগিদে বাংলাদেশ ব্যাংক এ ধরনের কঠোর অবস্থান নিতে বাধ্য হয়েছে। এর আগে পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেসকে অবসায়নের উদ্যোগ নেওয়া হলেও আদালতের নির্দেশনার অভাবে তা এখনো প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

নিয়োগপ্রাপ্ত প্রশাসক দলের মধ্যে আভিভা ফাইন্যান্সে দায়িত্ব পেয়েছেন মো. আলাউদ্দীন হোসেন, এফএএস ফাইন্যান্সে আবু সামা মো. আতাউর রহমান, ফারইস্ট ফাইন্যান্সে মো. সাদেকুর রহমান এবং ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ে মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন। তাঁদের সাথে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে দুজন করে অতিরিক্ত পরিচালক সহযোগী প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, এই পাঁচটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ২৭ হাজার আমানতকারীর প্রায় ২ হাজার ৭০০ কোটি টাকা আটকে রয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলো পুরোপুরি বন্ধের আগে আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হবে এবং প্রথম ধাপে ব্যক্তি পর্যায়ের আমানতকারীদের সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত পরিশোধের পরিকল্পনা করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

সরাসরি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এই রেজোল্যুশন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আমানতকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধারের চেষ্টা চলছে। সরকারি অনুমোদন সাপেক্ষে আমানতকারীদের পাওনা পরিশোধের এই উদ্যোগ আর্থিক খাতের সুশাসন নিশ্চিতে একটি মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, প্রতিষ্ঠানগুলোর আর্থিক জঞ্জাল পরিষ্কার করে আমানতকারীদের অর্থ ফেরতের লক্ষ্যেই নতুন এই প্রশাসক দল গঠন করা হয়েছে, যা আগামী দিনে এই খাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

0%
0%
0%
0%