হরমুজ প্রণালী সংকটে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বৃদ্ধি, যুক্তরাষ্ট্রে ফের মূল্যবৃদ্ধির শঙ্কা

হরমুজ প্রণালী পুনরায় উন্মুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ হয়ে আসায় আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম আবারও উর্ধ্বমুখী হয়ে উঠেছে, যা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সম্প্রতি হ্রাস পাওয়া জ্বালানি তেলের দামকে পুনরায় বাড়িয়ে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বাজার বিশ্লেষকরা। তেহরানের পক্ষ থেকে ওয়াশিংটনের প্রতি সামরিক হুমকি ও নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং ক্ষতিপূরণ প্রদানের দাবির মুখে এই কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ জলপথটি বন্ধ থাকায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে নতুন করে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে।
সোমবার আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দর ব্যারেল প্রতি ২ ডলারের বেশি বা ৩.৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৮৪.৬৪ ডলারে পৌঁছেছে। একই সময়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট বা ডব্লিউটিআই ক্রুডের দাম ৩.১ শতাংশ বেড়ে ব্যারেল প্রতি ৮০.৬৩ ডলারে দাঁড়িয়েছে। অথচ মাত্র এক সপ্তাহ আগেই দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতার আশায় তেলের দাম প্রায় ৭ শতাংশ হ্রাস পেয়েছিল।
বিশ্ববাজারে এই অস্থিরতার প্রভাব পড়তে শুরু করেছে মার্কিন গ্রাহকদের ওপর। আমেরিকান অটোমোবাইল অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রে খুচরা পর্যায়ে পেট্রোলের দাম প্রতি গ্যালনে ৯ সেন্ট কমে গড়ে ৪.০০ ডলারে নেমে এসেছিল, যা তার আগের সপ্তাহে ছিল ৪.০৯ ডলার। তবে হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকার কারণে জ্বালানি তেলের ওপর উর্ধ্বমুখী চাপ দ্রুত ফিরে আসতে পারে বলে সতর্ক করেছেন বাজার বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান গ্যাসবাডির জ্বালানি বিষয়ক প্রধান প্যাট্রিক ডি হান।
জ্বালানি খাতের গবেষণা প্রতিষ্ঠান এসইবি রিসার্চের বিশ্লেষকরা বিনিয়োগকারীদের জানিয়েছেন, জলপথটি কার্যত অবরুদ্ধ থাকলেও বাজারে একটি দ্রুত সমাধানের আশা এখনও জিইয়ে রয়েছে, যার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে ব্যারেল প্রতি ৮০ থেকে ৮৫ ডলারের এই লেনদেনে। তবে সমঝোতা দীর্ঘায়িত হলে বছরের এই সময়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে জ্বালানির দাম সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
জ্বালানি তেলের এই মূল্যবৃদ্ধির ইতিবাচক প্রভাব দেখা গেছে মার্কিন পুঁজিবাজারে তেল ও গ্যাস খাতের কোম্পানিগুলোর শেয়ারে। সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসের মধ্যভাগে এক্সনমবিলের শেয়ারের দর ২.৯ শতাংশ এবং শেভরনের দর ৩.১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়া বিপি ২.১ শতাংশ, শেল ১.২ শতাংশ এবং কনোকোফিলিপসের শেয়ারের দর বাজার খোলার পর থেকে ২.৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
