ভাঙ্গা-কুয়াকাটা মহাসড়ক ৬ লেনে উন্নীত করার দাবিতে দক্ষিণাঞ্চলে শিল্পায়নের সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনা

বরিশাল নগরীর একটি অভিজাত রেস্তোরাঁয় আয়োজিত বিভাগীয় কর্মশালায় বক্তারা দাবি জানিয়েছেন, ভাঙ্গা থেকে কুয়াকাটা পর্যন্ত মহাসড়কটি ছয় লেনে উন্নীত করা না হলে দক্ষিণাঞ্চলের শিল্পায়ন ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনা বাধাগ্রস্ত হবে। বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট ডেভেলপমেন্ট অথরিটি (বিডা) আয়োজিত এই কর্মশালায় বক্তারা বলেন, বিদ্যমান সরু সড়কের কারণে কাঁচামাল পরিবহন ও পর্যটকদের যাতায়াতে দীর্ঘ সময় ব্যয় হচ্ছে, যা বড় বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ কমিয়ে দিচ্ছে।
বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার খলিল আহমেদ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বলেন, দক্ষিণাঞ্চলে বিনিয়োগের বিশাল সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কারণে কাঙ্ক্ষিত শিল্পায়ন হচ্ছে না। তিনি পটুয়াখালীতে অধিগ্রহণকৃত বিশাল আয়তনের কৃষি জমি ও পায়রা বন্দরের জন্য সংরক্ষিত অব্যবহৃত জমির সঠিক ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এছাড়া দেশপ্রেমিক বিনিয়োগকারীদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সম্পদ পাচার না করে স্থানীয় কৃষি ও পর্যটন সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হবে।
কর্মশালায় উঠে আসা আলোচনায় বরিশাল অঞ্চলের নারিকেল, সুপারি, আমড়া ও পেয়ারা প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা গড়ে তোলার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়। বক্তারা অভিমত দেন যে, আধুনিক প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প গড়ে উঠলে জুস, জ্যাম ও আচার তৈরির মাধ্যমে রপ্তানি বাজার ধরা সম্ভব হবে, যা একই সঙ্গে কৃষকদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করবে এবং স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করবে। এছাড়া ইলিশসহ মিঠা পানির মাছ রক্ষা ও বংশবৃদ্ধিতে সরকারি-বেসরকারি সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়।
কুয়াকাটাকে কেন্দ্র করে পর্যটন শিল্পের সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনায় বক্তারা জানান, এটি কেবল একটি সমুদ্র সৈকত নয় বরং দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র হতে পারে। পর্যটন অবকাঠামোর উন্নয়ন ও বিনোদনকেন্দ্র সম্প্রসারণ করা গেলে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বাড়বে। তবে সামগ্রিক উন্নয়নের পূর্বশর্ত হিসেবে ভাঙ্গা-কুয়াকাটা মহাসড়কের সম্প্রসারণকেই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন অংশীজনরা।
এই কর্মশালায় বরিশাল জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. মামুন খন্দকার, বিডার মহাপরিচালক গাজী এ কে এম ফজলুল হক, বরিশাল চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি এবায়েদুল হক চাঁন, অধ্যাপক ড. সেলিম রায়হান এবং এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের কান্ট্রি ইকোনমিস্ট ড. চন্দনসহ বিভিন্ন খাতের বিশেষজ্ঞ ও উদ্যোক্তারা উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা একযোগে বলেন, অবকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমেই দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনীতিতে নতুন যুগের সূচনা করা সম্ভব।
