প্রধানমন্ত্রীকে কটূক্তি করায় মামলা, তরুণীর হয়রানি নিয়ে প্রশ্ন তুলল সিজেপি

যন্তর মন্তরে ছাত্র আন্দোলনের সময় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বিরুদ্ধে আপত্তিকর ভাষা ব্যবহারের অভিযোগে নয়ডার এক তরুণীর বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা নিয়ে দেশজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ককরোচ জনতা পার্টির মুখপাত্র সৌরভ দাস কঠোর প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে প্রশ্ন তুলেছেন, গালিগালাজ করা ঠিক কবে থেকে ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য করা শুরু হলো। তাঁর মতে, কোনো মন্তব্য আপত্তিকর মনে হলে তার নিন্দা করা যেতে পারে, কিন্তু সেই কারণে রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়ন বা পুলিশি হস্তক্ষেপ কোনোভাবেই কাম্য নয়।
সৌরভ দাস অভিযোগ করেন, ভারতের ৫০ শতাংশ আইনপ্রণেতার বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা থাকা সত্ত্বেও তাঁদের বিরুদ্ধে কোনো আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। অথচ তরুণ-তরুণীদের ছোটখাটো মন্তব্যের জেরে টার্গেট করা হচ্ছে, যা অত্যন্ত নিন্দনীয়। তিনি অবিলম্বে তরুণ প্রজন্মের প্রতি হয়রানি বন্ধ করে অভিযুক্ত তরুণীকে রেহাই দেওয়ার জন্য প্রশাসন ও সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। তাঁর ভাষ্যমতে, একটি মতামতের জবাব আরও একটি যুক্তিনির্ভর বক্তব্যের মাধ্যমেই হওয়া উচিত, কোনোভাবেই দমনমূলক রাষ্ট্রীয় যন্ত্রের ব্যবহারে নয়।
একই সুরে ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে প্রশ্ন তুলেছেন, দুর্ব্যবহারের অভিযোগে যদি মামলা দায়ের করতেই হয়, তবে ভারতের বিজেপির আইটি সেলের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কেন ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। তাঁর অভিযোগ, ওই সেলের সদস্যরা বছরের পর বছর ধরে নারীদের উদ্দেশ্যে অত্যন্ত কুরুচিপূর্ণ ও আপত্তিকর ভাষা ব্যবহার করে আসছেন, অথচ তাঁদের বিরুদ্ধে কোনো আইনি পদক্ষেপ চোখে পড়ে না।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে, যেখানে অভিযুক্ত তরুণীকে প্রধানমন্ত্রীকে গালিগালাজ করার জন্য ক্ষমা চাইতে দেখা গেছে। ওই ভিডিওতে তরুণীটি দাবি করেছেন, তাঁর বয়স মাত্র ১৫ বছর, যদিও পুলিশের দায়ের করা এফআইআরে তাঁর বয়স ২৫ বছর উল্লেখ করা হয়েছে। নিজের ভুল স্বীকার করে ওই তরুণী এটিকে জীবনের প্রথম ও শেষ ভুল বলে অভিহিত করেছেন। তবে এই ভিডিওর সত্যতা নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
তথ্যসূত্র: হিন্দুস্থান টাইমস
