নারী ও শিশু নির্যাতন কমলেও ধর্ষণ ও আত্মহত্যার হার উদ্বেগজনকভাবে ঊর্ধ্বমুখী

জুলাই মাসে নারী ও শিশু নির্যাতনের সামগ্রিক ঘটনার সংখ্যা কিছুটা হ্রাস পেলেও ধর্ষণ ও আত্মহত্যার মতো গুরুতর অপরাধের চিত্র অত্যন্ত উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশন (এমএসএফ)-এর সদ্য প্রকাশিত প্রতিবেদনে এমন তথ্যই উঠে এসেছে, যেখানে জুন ও জুলাই মাসের অপরাধ প্রবণতার তুলনামূলক বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, জুন মাসে নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা ৩২০টি থাকলেও জুলাই মাসে তা সামান্য কমে ৩০৬টিতে দাঁড়িয়েছে। তবে মোট ঘটনার সংখ্যা কমলেও অপরাধের ধরন ও তীব্রতা জনমনে শঙ্কা বাড়িয়ে তুলেছে। আলোচ্য সময়ে ধর্ষণের ঘটনা ৬৮টি থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ৯০টিতে পৌঁছেছে এবং আত্মহত্যার সংখ্যা ১৭টি থেকে বেড়ে ২৮টিতে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া যৌন নিপীড়ন ও হয়রানির ঘটনা ২১টি থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ২২টিতে উন্নীত হয়েছে।
সহিংসতার প্রকৃতি নিয়ে বিশ্লেষণে এমএসএফ উল্লেখ করেছে, ধর্ষণ ও আত্মহত্যার হার বেড়ে যাওয়া নারী ও শিশুদের চরম নিরাপত্তাহীনতা, ক্রমবর্ধমান সামাজিক চাপ এবং বিচারহীনতার সংস্কৃতির এক ভয়াবহ প্রতিফলন। তবে কিছু ক্ষেত্রে পরিস্থিতির উন্নতিও লক্ষ্য করা গেছে। জুলাই মাসে দলবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনা ১৬টি থেকে কমে ৭টিতে, ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনা ৫টি থেকে ৩টিতে, শারীরিক নির্যাতনের ঘটনা ৫৬টি থেকে ৪২টিতে এবং হত্যাকাণ্ডের সংখ্যা ৭৬টি থেকে ৫২টিতে নেমে এসেছে।
অপরাধ দমনে বিচারবহির্ভূত প্রচেষ্টাও উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, জুলাই মাসে স্থানীয় সালিসের মাধ্যমে ধর্ষণ ও ধর্ষণচেষ্টার তিনটি গুরুতর ঘটনা মীমাংসার চেষ্টা করা হয়েছে। মানবাধিকার কর্মীদের মতে, এ ধরনের ঘটনা বিচারব্যবস্থার প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা নষ্ট করে এবং অপরাধীদের মধ্যে দায়মুক্তির সংস্কৃতিকে উৎসাহিত করে। অন্যদিকে, অপহরণ ও নিখোঁজের ঘটনা ১২টি থেকে বেড়ে ১৩টিতে পৌঁছেছে এবং উভয় মাসেই একটি করে অ্যাসিড নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে।
অনলাইন জুয়া ও মাদক পরিস্থিতির বিষয়ে এমএসএফ জানিয়েছে, জুলাই মাসে এ-সংক্রান্ত ঘটনায় কেউ নিহত বা আহত না হলেও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে ১০ জনকে আটক করা হয়েছে, যা জুন মাসে ছিল শূন্য। সংস্থাটির পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, অনলাইন জুয়ার ক্রমবর্ধমান বিস্তার তরুণ প্রজন্মের মধ্যে অর্থনৈতিক শোষণ, পারিবারিক সহিংসতা এবং মানসিক স্বাস্থ্য সংকটের পাশাপাশি সাইবার অপরাধের ঝুঁকিকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে। দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তারেক রহমানের সরকারের গৃহীত পদক্ষেপগুলোর পাশাপাশি সমাজের সকল স্তরে সচেতনতা সৃষ্টির তাগিদ দিয়েছে সংস্থাটি।
