চট্টগ্রামে স্বাস্থ্য পরীক্ষায় সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের খরচে আকাশছোঁয়া বৈষম্য

চট্টগ্রাম মহানগর ও জেলা জুড়ে স্বাস্থ্যসেবা খাতে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের রোগ নির্ণয় পরীক্ষার খরচে বিশাল ব্যবধান পরিলক্ষিত হচ্ছে। একই ধরনের প্যাথলজিক্যাল পরীক্ষার জন্য রোগীদের বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও হাসপাতালগুলোতে সরকারি হারের তুলনায় দুই থেকে ১২ গুণ পর্যন্ত বেশি অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে। স্বাস্থ্য খাতে তদারকির অভাব, রেফারেল বাণিজ্য এবং দৃশ্যমান মূল্যতালিকার অনুপস্থিতির সুযোগে সাধারণ রোগীদের ওপর এই অতিরিক্ত ব্যয়ের বোঝা চাপানো হচ্ছে।
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের ল্যাবরেটরি মেডিসিন বিভাগে প্রতিদিন শত শত রোগী সেবা নিতে ভিড় করেন। এখানে ৩৫ ধরনের পরীক্ষা সরকার নির্ধারিত সুলভ মূল্যে সম্পন্ন হলেও চাহিদার তুলনায় সেবা সীমিত হওয়ায় রোগীদের দীর্ঘ অপেক্ষায় পড়তে হয়। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে চমেক হাসপাতাল সংলগ্ন এলাকার অসাধু চক্র রোগীদের বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে যেতে প্ররোচিত করে, যেখানে পরীক্ষার নামে চলে লাগামহীন অর্থ আদায়।
তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, সরকারি হাসপাতালে সিবিসি পরীক্ষার ফি ২০০ টাকা হলেও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে তা ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে। এছাড়া ক্রিয়েটিনিন পরীক্ষায় চমেকে ৫০ টাকা লাগলেও বাইরে গুনতে হয় ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা। লিপিড প্রোফাইল, ট্রপোনিন-আই এবং ইউরিন আর/ইয়ের মতো সাধারণ পরীক্ষাগুলোতেও বেসরকারি খাতের সাথে সরকারি মূল্যের ব্যাপক বৈষম্য রয়েছে। বিশেষ করে ডোপ টেস্টসহ জটিল পরীক্ষাগুলোতে এই পার্থক্যের পরিমাণ আকাশচুম্বী।
বিশেষায়িত পরীক্ষার ক্ষেত্রেও একই অস্থিতিশীল চিত্র দেখা যায়। চমেক হাসপাতালে কোলনস্কোপি পরীক্ষার জন্য এক হাজার ২০০ টাকা ব্যয় হলেও বেসরকারি হাসপাতালে একই পরীক্ষার জন্য পাঁচ থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে। বোন ম্যারো পরীক্ষা এবং থাইরয়েড প্রোফাইলের ক্ষেত্রেও সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের খরচের এই আকাশ-পাতাল পার্থক্য নিম্ন ও মধ্যবিত্ত রোগীদের মানবেতর পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
এ বিষয়ে চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম জানান, মহানগর ও জেলায় শতাধিক নিবন্ধিত হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার রয়েছে, যাদের কার্যক্রম নিয়মিত তদারকির আওতায় আনা হয়েছে। অন্যদিকে স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন পরীক্ষার ফি সরকারিভাবে নির্ধারণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। তবুও বেসরকারি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে অতিরিক্ত বিল আদায় এবং অস্বচ্ছতার অভিযোগ বন্ধে কঠোর তদারকির দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ ও সচেতন মহল।
