সাইবার অপরাধ ও গুজব রোধে কঠোর আইনের পথে সরকার

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরকারপ্রধান তারেক রহমানসহ গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিত্বদের নিয়ে অপপ্রচার ও গুজব রোধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে সরকার। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি মানহানিকর কনটেন্ট দ্রুত অপসারণের লক্ষ্যে ‘সাইবার সুরক্ষা আইন ২০২৬’ শিরোনামে একটি সংশোধনী আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এই আইনের আওতায় মেটা ও ফেসবুকের মতো আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি প্ল্যাটফর্মগুলোকে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে বিতর্কিত কনটেন্ট সরিয়ে নিতে বাধ্য করা হবে।

বিজ্ঞাপন

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, অনলাইনে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার নামে বর্তমান সরকারপ্রধান ও তার পরিবারকে জড়িয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচারের বিষয়টি উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। স্বাধীনতার প্রকৃত সংজ্ঞার পুনর্ব্যাখ্যা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন, গুজব প্রতিরোধে আইনি সংস্কারের কাজ শুরু হয়েছে। নতুন সংশোধনীতে অপরাধীদের জন্য দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির বিধান রাখা হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মগুলোর অসহযোগিতার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, প্রতিবেশী দেশগুলো কঠোর আইনের মাধ্যমে মেটাকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কনটেন্ট অপসারণে বাধ্য করছে, অথচ বর্তমান আইনের সীমাবদ্ধতায় বিটিআরসির অনুরোধগুলো তারা সহজে আমলে নিচ্ছে না। নতুন আইনে বিটিআরসি ও ক্ষমতাপ্রাপ্ত সংস্থাকে কনটেন্ট ব্লক করার পূর্ণ ক্ষমতা দেওয়া হবে, যাতে কোনো আইনি ফাঁকফোকর না থাকে।

ভার্চুয়াল জগতের পাশাপাশি বাস্তব জীবনের অপরাধ দমনেও সরকার কঠোর অবস্থান নিয়েছে। ১৮৬৭ সালের ব্রিটিশ আমলের জুয়া প্রতিরোধ আইনকে আধুনিকায়ন করে নতুন খসড়া চূড়ান্ত করা হয়েছে, যা চলতি সংসদ অধিবেশনেই উত্থাপিত হতে পারে। অনলাইন বেটিং ও জুয়া রোধে এই আইন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

একইসঙ্গে মাদক কারবার দমনে ‘মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন’ সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বর্তমান আইনে মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের অস্ত্র ব্যবহারের আইনি সুরক্ষা না থাকায় তারা দায়িত্ব পালনে ঝুঁকির মুখে পড়েন। নতুন খসড়ায় কর্মকর্তাদের অস্ত্র ব্যবহারের অনুমতি দেওয়ার পাশাপাশি ল্যাবরেটরি সুবিধা, উন্নত প্রশিক্ষণ এবং নিজস্ব ডগ স্কোয়াড গঠনের মাধ্যমে এই বাহিনীকে স্বয়ংসম্পূর্ণ করে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।

0%
0%
0%
0%