কলকাতাকে ঘিরে আউটার রিং রোড নির্মাণের উদ্যোগ পাঁচ জেলাজুড়ে যোগাযোগ বিপ্লবের পরিকল্পনা

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের শিল্প, বাণিজ্য এবং নগর পরিবহণ ব্যবস্থাকে অত্যাধুনিক মানে উন্নীত করতে এক মেগা পরিকাঠামো প্রকল্প হাতে নিয়েছে রাজ্য সরকার। দিল্লি ও বেঙ্গালুরুর আদলে কলকাতাকে ঘিরে একটি বিশালাকার আউটার রিং-রোড নির্মাণের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে কলকাতা-সহ পাঁচটি জেলাকে সংযুক্ত করা হবে, যা কেবল যানজট নিরসনই করবে না, বরং পণ্য পরিবহণ ও শিল্পায়নের ক্ষেত্রে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে মনে করছেন নীতিনির্ধারকরা।

বিজ্ঞাপন

প্রস্তাবিত এই প্রকল্পের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ হিসেবে গঙ্গার উপর নতুন সেতু নির্মাণ অথবা নদীর তলদেশ দিয়ে সুড়ঙ্গ তৈরির সম্ভাব্যতা যাচাই করা হচ্ছে। পাশাপাশি, দ্বিতীয় হুগলি সেতু থেকে দক্ষিণেশ্বরের নিবেদিতা সেতু পর্যন্ত গঙ্গার পূর্ব তীর ধরে চার লেনের একটি বিশেষ করিডর নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে। পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল জানিয়েছেন, কলকাতার চারপাশের এই আধুনিক রিং-রোড শুধু পশ্চিমবঙ্গের অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ নয়, বরং পুরো পূর্ব ভারতের সাথে পণ্য ও যাত্রী পরিবহণের গতিপথ আরও সুগম করবে।

কেন্দ্রীয় সংস্থা রাইটস-এর ওপর এই প্রকল্পের ট্রাফিক, অর্থনৈতিক সম্ভাবনা এবং প্রযুক্তিগত দিকগুলো খতিয়ে দেখার দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে। দুর্গাপূজার পরবর্তী সময়ে স্যাটেলাইট চিত্র, ড্রোন জরিপ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে রাইটসের বিশেষজ্ঞরা বিস্তারিত সমীক্ষার কাজ শুরু করবেন। মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল আরও জানিয়েছেন, ভারতর প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে এই প্রকল্পের জন্য প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস পাওয়া গেছে, যার ফলে অর্থ সংকটের কোনো আশঙ্কা নেই।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, দক্ষিণ ২৪ পরগনার বজবজ, মহেশতলা, ডায়মন্ড হারবার রোড, আমতলা, বারুইপুর, সোনারপুর এবং বাসন্তী হাইওয়ে হয়ে উত্তর ২৪ পরগনার টাকি রোড, বসিরহাট, কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়ে, বেলঘরিয়া এক্সপ্রেসওয়ে এবং নিবেদিতা সেতুর মাধ্যমে হুগলির ডানকুনি ও হাওড়ার পাঁচলার জাতীয় সড়কের সাথে এই রিং-রোড সংযুক্ত হবে। ফলে শহর কলকাতায় প্রবেশ না করেই পণ্যবাহী গাড়ি ও যাত্রীরা উত্তরবঙ্গ, দক্ষিণবঙ্গ ছাড়াও বিহার ও ওড়িশাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে দ্রুত পৌঁছাতে পারবেন।

বিজ্ঞাপন

প্রশাসন জানিয়েছে, এই প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে নতুন করে বড় কোনো জমি অধিগ্রহণের জটিলতা নেই। অধিকাংশ রুট গঙ্গার ধারের বন্দর এলাকার জমি এবং বিদ্যমান প্রশস্ত সড়ক ব্যবহারের মাধ্যমেই সম্পন্ন করা হবে, তবে প্রয়োজনে দখলদার উচ্ছেদ করে রাস্তা সম্প্রসারণ করা হবে। সবশেষে, এই রিং-রোড আগামী একশো বছরের পরিবহণ চাহিদাকে মাথায় রেখে ডিজাইন করা হচ্ছে, যা কলকাতার আঞ্চলিক অর্থনীতির চাকা সচল করতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

তথ্যসূত্র: হিন্দুস্থান টাইমস

0%
0%
0%
0%