রানাঘাটে দুর্নীতি ও তোলাবাজির অভিযোগে তৃণমূল কাউন্সিলরকে টোপর পরিয়ে অভিনব হেনস্থা ও গণপিটুনি

পশ্চিমবঙ্গের রানাঘাটে তৃণমূল কংগ্রেসের এক কাউন্সিলরকে ঘিরে অভূতপূর্ব জনরোষ ও হেনস্থার ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। সোমবার সন্ধ্যায় রানাঘাট পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর জয়দীপ দত্ত—যিনি স্থানীয়ভাবে বগাই দত্ত নামে পরিচিত—তোলাবাজি ও দুর্নীতির অভিযোগে প্রকাশ্য রাজপথে উত্তেজিত জনতার নিগ্রহের শিকার হন। ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী তাকে মারধর করার পাশাপাশি মাথায় বিয়ের টোপর পরিয়ে এবং গলায় ‘আমি বিয়ে করতে জেলে যাচ্ছি’ লেখা পোস্টার ঝুলিয়ে এক নাটকীয় কায়দায় প্রতিবাদ জানান।
সোমবার সন্ধ্যায় রানাঘাটের ব্যস্ততম চৌধুরী মোড় এলাকায় ঘটনাটি ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান অনুযায়ী, স্থানীয় বাসিন্দারা হঠাৎ করেই কাউন্সিলরকে ঘিরে ধরে বিক্ষোভ শুরু করেন। মুহূর্তের মধ্যে প্রতিবাদ এক চরম পর্যায়ে পৌঁছায় এবং কেউ একজন জোর করে তার মাথায় বিয়ের টোপর পরিয়ে দেয়। এই নজিরবিহীন হেনস্থার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘ সময় ধরে ওই কাউন্সিলর এলাকায় তোলাবাজি, সাধারণ মানুষকে ভয় দেখানো এবং বিভিন্ন ধরনের দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। এলাকাবাসীর দাবি, সেই দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভেরই বিস্ফোরণ ঘটেছে সোমবার রাতের এই ঘটনায়। জনরোষের মুখে পড়ে কাউন্সিলরকে কিল-ঘুসি ও চড়-থাপ্পড় খেতে হয় এবং দীর্ঘক্ষণ তাকে হেনস্থার শিকার হতে হয়।
খবর পেয়ে রানাঘাট থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয় এবং বিক্ষুব্ধ জনতার কবল থেকে কাউন্সিলরকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। ঘটনার পর এলাকায় আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঠেকাতে পুলিশি টহলদারি জোরদার করা হয়েছে। তবে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস এবং বিরোধী ভারতীয় জনতা পার্টির মধ্যে দোষারোপের রাজনীতি শুরু হয়েছে।
তৃণমূল কংগ্রেসের স্থানীয় নেতৃত্ব এই ঘটনায় গেরুয়া শিবিরের দিকে আঙুল তুললেও, ভারতীয় জনতা পার্টির রানাঘাট উত্তর-পশ্চিম মণ্ডলের সভাপতি সমস্ত অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, এ ধরনের রাজনৈতিক সংস্কৃতির সঙ্গে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই এবং এই ঘটনার সঙ্গে বিজেপির কোনো কর্মী জড়িত নন।
এদিকে, এই ঘটনায় শাসকদলের জেলা নেতৃত্ব চরম অস্বস্তিতে পড়েছে। দলের একাংশের মতে, কাউন্সিলরের ব্যক্তিগত বিতর্কিত কাজকর্মের জেরে দলীয় ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হচ্ছে। তবে একজন জনপ্রতিনিধিকে প্রকাশ্য রাস্তায় এভাবে হেনস্থা করার বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে আইনশৃঙ্খলার অবনতি সংক্রান্ত প্রশ্ন উঠেছে। পুলিশ বর্তমানে পুরো বিষয়টি তদন্ত করে দেখছে।
তথ্যসূত্র: হিন্দুস্থান টাইমস