AdvertisementAdvertisement

রাশিয়ায় নিহত কুষ্টিয়ার শিক্ষার্থী অনিকের দাফন সম্পন্ন

উচ্চশিক্ষার উদ্দেশ্যে রাশিয়ায় গিয়ে রহস্যজনকভাবে প্রাণ হারানো কুষ্টিয়া সদর উপজেলার সওড়াতলা গ্রামের মেধাবী শিক্ষার্থী খালেকুজ্জামান অনিকের লাশ শেষ পর্যন্ত নিজ গ্রামে ফিরেছে। রোববার বাদ জোহর সওড়াতলা জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে জানাজা শেষে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে সমাহিত করা হয়েছে। দীর্ঘ এক মাস ১২ দিন পর নিথর দেহ দেশে পৌঁছালে পরিবারের স্বজন ও গ্রামবাসীর কান্নায় আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে ওঠে, শেষবারের মতো প্রিয়জনকে একনজর দেখার জন্য শত শত মানুষ সেখানে ভিড় করেন।

নিহত অনিক সদর উপজেলার আইলচারা ইউনিয়নের সওড়াতলা গ্রামের কৃষক মানোয়ার বিশ্বাসের ছেলে। প্রায় আড়াই বছর আগে বৃত্তি নিয়ে রাশিয়ার চেলিয়াবিনস্কের সাউথ ইউরাল স্টেট ইউনিভার্সিটিতে উচ্চশিক্ষার জন্য পাড়ি জমিয়েছিলেন তিনি। গত ২০ জুন বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি পাঁচতলা ভবনের ছাদ থেকে পড়ে তার মৃত্যু হয় বলে জানা গেলেও, ঘটনার নেপথ্যে প্রকৃত কারণ নিয়ে পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে গভীর সন্দেহ ও রহস্য রয়ে গেছে।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

জানাজা পূর্ব সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে কুষ্টিয়া সদর আসনের সংসদ সদস্য মুফতি আমীর হামজা উল্লেখ করেন, বিদেশে কোনো বাংলাদেশি শিক্ষার্থী বা নাগরিকের মৃত্যু হলে তাদের লাশ দেশে আনা অত্যন্ত ব্যয়বহুল ও কষ্টসাধ্য একটি প্রক্রিয়ায় পরিণত হয়েছে। অনিকের লাশ দেশে আনতে প্রথমে মোটা অঙ্কের অর্থ দাবি করা হলেও, পরবর্তীকালে বিভিন্ন কর্তৃপক্ষের সহযোগিতায় প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে তা সম্ভব হয়েছে। দরিদ্র পরিবারের পক্ষে এ ধরনের আকস্মিক ব্যয়ভার বহন করা প্রায় অসম্ভব বলে তিনি আক্ষেপ প্রকাশ করেন।

নিহতের চাচা মুফতি আলী হোসাইন ফারুকী জানান, ছোটবেলা থেকেই অত্যন্ত মেধাবী ও শান্ত স্বভাবের ছিলেন অনিক। মায়ের অকাল মৃত্যুর পর বাবা ও বড় ভাইকে নিয়ে তার পরিবার টিকে ছিল। উজ্জ্বল ভবিষ্যতের স্বপ্ন নিয়ে বিদেশ বিভুঁইয়ে গিয়ে রহস্যজনকভাবে প্রাণ হারানোর এ ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে পুরো এলাকায়। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত রহস্য উন্মোচনসহ দোষীদের চিহ্নিত করার দাবি জানিয়েছেন নিহতের পরিবার ও স্থানীয়রা।

Advertisement
বিজ্ঞাপন
0%
0%
0%
0%