যৌন অসদাচরণের গুরুতর অভিযোগে কাঠগড়ায় অস্কারজয়ী জ্যারেড লেটো

হলিউডের পর্দা কাঁপানো অস্কারজয়ী অভিনেতা ও রকস্টার জ্যারেড লেটো ফের জড়িয়ে পড়েছেন এক ভয়াবহ বিতর্কের ঘূর্ণাবর্তে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির নতুন প্রামাণ্যচিত্র ‘জ্যারেড লেটো: হলিউডস ডার্ক সিক্রেট’-এ উঠে এসেছে তাঁর বিরুদ্ধে গুরুতর যৌন অসদাচরণের চাঞ্চল্যকর সব তথ্য। দশজন নারী এই প্রামাণ্যচিত্রে জ্যারেড লেটোর বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন, যার মধ্যে নয়জন প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে তাঁদের তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেছেন।
প্রামাণ্যচিত্রটিতে উঠে আসা অভিযোগগুলোর ভয়াবহতা শিহরিত করার মতো। চারজন নারী এমন সব অভিজ্ঞতার কথা বর্ণনা করেছেন যা যুক্তরাষ্ট্রের আইন অনুযায়ী গুরুতর অপরাধের শামিল। ভুক্তভোগীদের দাবি, যখন এসব ঘটনা ঘটে, তখন তাঁদের বয়স ছিল কৈশোরে, আর লেটোর বয়স ছিল ত্রিশ থেকে চল্লিশের কোঠায়। একজন নারী অভিযোগ করেছেন, ১৭ বছর বয়সে একটি মোটেলের বাথরুমে তাঁকে যৌন নিপীড়নের শিকার হতে হয়েছিল। অন্য একজন দাবি করেছেন, ১৯ বছর বয়সে তাঁকে যৌন সহিংসতার হুমকি দিয়েছিলেন এই তারকা।
তালিকায় থাকা আরও এক ভুক্তভোগী জানিয়েছেন, ক্যালিফোর্নিয়ায় ১৭ বছর বয়সে লেটোর সঙ্গে তাঁর যৌন সম্পর্ক হয়েছিল, অথচ সেই রাজ্যে সম্মতির আইনি বয়স ছিল ১৮ বছর। এছাড়া অপর এক নারী জানান, মাত্র ১৬ বছর বয়সে তাঁকে বারবার যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ ফোনকল করতেন লেটো। এমনকি গোপনীয়তা চুক্তিতে সই করিয়ে ঘটনার সত্যতা ধামাচাপা দেওয়ার প্রচেষ্টাও চালানো হয়েছিল বলে দাবি করা হয়েছে। বিবিসির তথ্যমতে, অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করতে ভুক্তভোগীদের পরিবার ও বন্ধুদের বক্তব্য এবং তৎকালীন বিভিন্ন বার্তা ও ছবি পর্যালোচনা করা হয়েছে।
লেটোর ব্যান্ডের সাবেক কর্মীরাও প্রামাণ্যচিত্রটিতে মুখ খুলেছেন। তাঁরা জানিয়েছেন, কিশোরী ভক্তদের সঙ্গে লেটোর মেলামেশা নিয়ে দলের ভেতরেই এক ধরনের অস্বস্তি কাজ করত। অনেক সময় তাঁদের ব্যাকস্টেজে কিংবা ড্রেসিংরুমে আমন্ত্রণ জানানো হতো, যা বয়সের ব্যবধানের কারণে কর্মীদের কাছে ছিল বেশ আপত্তিকর।
তবে এই সমস্ত অভিযোগ দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করেছেন জ্যারেড লেটো। নিজের মুখপাত্রের পাঠানো বিবৃতিতে অস্কারজয়ী এই অভিনেতা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, তিনি জীবনে কাউকে কখনোই যৌন নিপীড়ন করেননি এবং তাঁর বিরুদ্ধে আনা যাবতীয় অভিযোগ সম্পূর্ণ বানোয়াট ও ভিত্তিহীন। এর আগেও গত বছর ডিজে অ্যালি টেইলজ ও পরবর্তীতে একাধিক নারী লেটোর বিরুদ্ধে একই ধরনের অভিযোগ এনেছিলেন, যা তখন থেকেই অস্বীকার করে আসছেন এই তারকা। হলিউডের গ্ল্যামার দুনিয়ায় জ্যারেড লেটোর এই অন্ধকার দিকটি নিয়ে এখন চলছে তুমুল সমালোচনা ও চাঞ্চল্য।
